প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বন্যায় ভয়াবহতার একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছিল চীন ও নেপাল সীমান্তের গিরং বন্দর। রোববার সেখানে উজ্জ্বল কমলা পোশাক পরা চীনা উদ্ধারকর্মীদের তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু পাঁচতলা সেই কাস্টমস ভবনের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
রোববার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদেরকে তিব্বতের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেয়। সেখানে দেখা যায়, পাঁচতলা কাস্টমস ভবনটির কোনো চিহ্নই নেই। দুর্যোগের আগে যেসব ভবন ছিল, সেগুলোর মধ্যে কেবল একটি পানির টাওয়ারের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে।
সীমান্ত পারাপারে এক সময়কার ব্যস্ত বন্দরটিতে ২০ মিটার উঁচু একটি ফটক ছিল। সেখানে এখন উদ্ধারকর্মীরা চীনের জাতীয় পতাকা টানিয়ে রেখেছেন। পাশের একটি বোর্ডে লেখা- ‘বিপজ্জনক এলাকা, দ্রুত পার হোন’। বন্যার পর কয়েক’শ মানুষ এখনো নিখোঁজ। তাদের সন্ধান ও পুনরুদ্ধারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদেরকে সেখানে বেলচা ও খননযন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়তে দেখা গেছে।
জটিল উদ্ধার অভিযান
তিব্বতের গিরং কাউন্টি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। তবে স্থলবন্দরটি তুলনামূলক নিচু এলাকায়- প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার উচ্চতায়। ভূমিধসের ঝুঁকি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কাদার স্তরের কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে গেছে।
গিরংয়ে যাওয়ার একমাত্র স্থলপথটি গত বুধবার সকালে চালু হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জন্য কর্মীরা অস্থায়ী খুঁটি বসিয়ে এলাকাটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করছেন।
গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এখনো নিখোঁজ ৫ হাজারের বেশি। এর মধ্যে চীনের অংশে শুক্রবার পর্যন্ত ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ ৫৩১ জনের মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন নাগরিক আছেন।
অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেপাল হয়ে তিব্বতের কৈলাস পর্বতে যান। হিন্দু ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি পবিত্র স্থান। হিন্দুদের বিশ্বাস, কৈলাস পর্বতে দেবতা শিব ও তাঁর স্ত্রী পার্বতীর চিরস্থায়ী আবাস।
বেইজিংয়ে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, তিব্বতে নিখোঁজ থাকা বিদেশিদের অনেকেই তীর্থযাত্রী ছিলেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে আছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের নাগরিক ৪৯ জন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এনজিটি