
দীর্ঘ কয়েক মাসের স্থবিরতার পর বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রত্যাশী বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আবারও ভিসা পাওয়ার পথ খুলেছে। তবে নতুন যাচাই-বাছাই নীতির কারণে প্রক্রিয়াটি আগের তুলনায় আরও কঠোর হতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের যুক্তি ছিল, এসব দেশের অভিবাসীদের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা মার্কিন করদাতাদের ওপর আর্থিক বোঝা তৈরি করতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই স্থগিতাদেশটি দেওয়া হয়েছিল।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক)-এর দায়ের করা এক মামলায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন জেলা বিচারক জিনেট ভার্গাস রায় দেওয়ার পর গত ২১ আগস্ট এই নীতি বাতিল হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২১ আগস্ট থেকে জানুয়ারিতে আরোপিত ওই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আগের নিষেধাজ্ঞা আর বাধা হিসেবে থাকছে না।
তবে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি কমেনি। আবেদনকারীদের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, নিরাপত্তা যাচাই এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, অভিবাসীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর কি না এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল কি না—তা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে ভিসা যাচাই ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা চলছে।
এদিকে গত সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থায় সাময়িক পরিবর্তন এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর কর্মকর্তাদের নতুন প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সমন্বয় করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ৭৫ দেশের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া বা পুনর্নির্ধারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।
এর আগে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছিল, বাংলাদেশিদের অভিবাসী ভিসার আবেদন গ্রহণ ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া চালু থাকলেও চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু স্থগিত ছিল। অর্থাৎ আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারলেও চূড়ান্ত ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তেন।
নতুন এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারসহ স্থায়ীভাবে বসবাসের অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুখবর। বিশেষত যাদের ভিসা ইস্যু কেবল এই স্থগিতাদেশের কারণে আটকে ছিল, তারা এখন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলো: বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, রাশিয়া, ব্রাজিল, পাকিস্তান, কুয়েত, থাইল্যান্ড, মিশর, ইরান, ইরাক, জর্দান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বার্বাডোস, বেলারুশ, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার, বসনিয়া, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, বেলিজ, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, ডিআর কঙ্গো, ডোমিনিকা, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, কাজাখস্তান, কসোভো, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।