নতুন নেতৃত্ব পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সম্ভাব্য নেতাদের তালিকা ছোট করে আনা হয়েছে। দলটির নীতিনির্ধারণী মহলের চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইও শেষ হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো সময় নতুন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
ছাত্রদলের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শীর্ষ পদের জন্য বেশ কয়েকজন নেতা আলোচনায় আছেন। সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলামের (জিসান) নাম। বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির আরও দুই নেতা এ বি এম ইজাজুল কবির (রুয়েল) ও মনজুরুল আলমের (রিয়াদ) নামও রয়েছে আলোচনায়। সূত্রের দাবি, এই তিনজনের মধ্য থেকে একজন নতুন সভাপতি হতে পারেন।
সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, ইব্রাহিম খলিল ও রাজু আহমেদ। এ ছাড়া এইচ এম আবু জাফর (জাফর), খোরশেদ আলম (সোহেল), কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত, আরিফুল ইসলাম (আরিফ), তরিকুল ইসলাম (তারিক), আবদুর রহিম (রনি) ও মিনহাজ আহমেদের (প্রিন্স) নামও বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সরাসরি তদারকি করছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, কারাবরণ, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা—এবার শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত তালিকায় শীর্ষ দুটি পদের জন্য এগিয়ে আছেন মমিনুল ইসলাম ও আমান উল্লাহ আমান।

সাবেক নেতাদের প্রভাব বা কোনো ধরনের ‘সিন্ডিকেট’ এড়িয়ে যোগ্য ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব বাছাইয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
প্রথম ধাপে সংগঠনটির শীর্ষ পাঁচ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলে দলীয় সূত্রের ধারণা।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবায় নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়া নেতারাই আগামী কমিটিতে প্রাধান্য পাবেন। তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংগঠনের জন্য দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা মমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করে এগিয়ে নিতে তাকে যে দায়িত্বই দেওয়া হোক, তিনি নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তা পালনের চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্তের ওপর তার পূর্ণ আস্থা আছে। দলের প্রয়োজনে ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে তিনি সবসময় দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।
দলীয় নেতাদের মতে, নতুন নেতৃত্বের সামনে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত করা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই