
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পে-স্কেল নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং এ ব্যাপারে সরকারের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আছে। আমরা এটি বাস্তবায়ন করব। এটি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হতে পারে।"
বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, "বাজারে কিছু সমস্যা আছে, সেটি সমাধানেও আমরা চেষ্টা করছি। আপনারা লক্ষ করছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আশা করি, ইনশাআল্লাহ শিগগিরই তা ঠিক হয়ে যাবে।"
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আপনারা জানেন, আমরা কেমন একটি দেশ পেয়েছি। বিগত ১৮ বছরে দেশটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সব ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। তবে আপনারা লক্ষ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিবর্তনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা কিছু অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প নিয়ে মাঠে নেমেছি—কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মাননা প্রদানসহ আরও অনেক কর্মসূচি। এ ছাড়া খাল খনন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদান এবং সুদসহ তা মওকুফের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও আমরা করেছি। আমরা মনে করি, সরকার সঠিকভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। ছয় মাস যথেষ্ট সময় নয়, তবে আমরা পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছি।"
বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, "এখন আমরা যা দেখছি, তা হলো গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট। আপনারা জানেন, এই সংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, আর এর বিকল্প ব্যবস্থা বিগত সরকার গড়ে তুলতে পারেনি।"
তিনি বলেন, "এ ধরনের সংকট রাতারাতি সমাধান করা যায় না, এতে সময় লাগে। সে কারণেই আমরা বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, এমনকি চীন—বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চলছে।"
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, "বিদ্যুতের ক্ষেত্রে কিছু দুর্ঘটনার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, একইভাবে গ্যাসের ক্ষেত্রেও। এসব আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। তবে সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে। আশা করি, অচিরেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।"
গত ছয় মাসে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী ছিল—জানতে চাইলে তিনি বলেন, "অর্থনীতি। ব্যাংক খাতে লুটপাট হয়েছে, লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ফলে আমরা ব্যবসা খাতকে ব্যাংকের মাধ্যমে যথাযথ সহায়তা দিতে পারছি না। এসবের জন্য দায়ী বিগত সরকার। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সময় প্রয়োজন। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক আছে।"
পে-স্কেল ঘোষণার ফলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ ও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা আছে কি না—জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, "না, বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় আছে। কিন্তু উপায় কী? সাধারণত পাঁচ-ছয় বছর পরপর পে-স্কেল ঘোষণা করার কথা। কিন্তু বিগত সরকার ১১ বছর ধরে কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করেনি, যার ফলে প্রায় ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী চাপের মধ্যে রয়েছেন।"
তিনি বলেন, "মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন বাড়ানো প্রয়োজন। এটি হয়তো সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর হবে। কিন্তু এটাও সত্য যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ জীবনযাত্রার মান দাবি করতেই পারেন। পাঁচ থেকে ছয় বছর পরপর এটি হওয়ার কথা থাকলেও, এবার প্রায় ১২ বছর পার হয়ে যাচ্ছে।"
মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব, উৎপাদনশীলতা বাড়াব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে মোকাবিলা করা হবে।"
প্রশাসনের শীর্ষ দুই পদে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখ্য সচিব বলেন, "একটু অপেক্ষা করুন, দেখুন। ২৪ ঘণ্টা পরই হয়তো জানতে পারবেন।"
দুই সচিবের মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। আপনারা অপেক্ষা করুন।"
সরকারের ছয় মাসের প্রশাসনিক কার্যক্রমে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট কি না—জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, "আমি অবশ্যই সন্তুষ্ট।"