তারেক রহমানের ভারত সফর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়োজনের চেষ্টা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। দুই

2026-08-14T11:21:47+06:00
2026-08-14T11:21:47+06:00
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
তারেক রহমানের ভারত সফর সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আয়োজনের চেষ্টা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২১ এএম   (ভিজিট : ৩)
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভারত। এই ইস্যুতে ঢাকার সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। দুই দেশের সম্পর্কের পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণের লক্ষ্যে চলতি মাসের শেষ নাগাদ অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে এই সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, এই সফর গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন, জ্বালানি-সংক্রান্ত চুক্তি এবং ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি করবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়েছে, ভারতের কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হতে পারে। ঢাকার সূত্রগুলো দুই দেশের মধ্যে চলমান যোগাযোগে সন্তোষ প্রকাশ করলেও সতর্ক করে বলেছে, ভারতের মাটি থেকে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা তাঁর দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে তা নতুন উদ্যোগগুলোর ওপর ছায়া ফেলতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকার সূত্রগুলো আরও বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব সম্পর্ক স্বাভাবিক করা প্রয়োজন। কারণ, বছরের বাকি চার মাসে ভারতীয় নেতৃত্বের জন্য অন্য দেশগুলোর সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচি নির্ধারিত হতে থাকায় কূটনৈতিক সুযোগের জানালা শিগগিরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এই নতুন পর্যায়ের যোগাযোগ শুরু হয় গত সোমবার, ১০ আগস্ট। ওই দিন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর আগে, ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনা ও তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনে ‘ক্ষুব্ধ’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনুষ্ঠানটিকে বাংলাদেশের ‘সার্বভৌমত্বের’ প্রতি ‘অবমাননা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

এর এক দিন আগে, ৯ আগস্ট, বাংলাদেশ ভারতের একটি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানায়। ওই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের সরকারের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন।

বাংলাদেশের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের আলাদা বলে ঘোষণা করে। মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের ‘নিয়মতান্ত্রিকভাবে গঠিত সরকারের’ বিরুদ্ধে ওই অনুষ্ঠানে যে মন্তব্য করা হয়েছে, ভারত তা ‘সমর্থন করে না’।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও স্পষ্ট করে জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি ভারত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁকে একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিল। ১০ আগস্ট ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমানও এই দ্বিপক্ষীয় আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপর ত্রিবেদী নয়াদিল্লি সফর করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেন। দ্য হিন্দু জানতে পেরেছে, ভারতীয় পক্ষ তারেক রহমান সরকারের কাছে বার্তা দিয়েছে যে ‘সম্ভব হলে চলতি মাসের শেষের আগেই’ একটি আগাম দ্বিপক্ষীয় সফর আয়োজন করা হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণের পথ তৈরি হবে। এর আওতায় থাকবে ‘পানি-সম্পর্কিত বিষয়, জ্বালানি চুক্তি, ভিসা সুবিধা এবং ২০২৫ সালের মে মাসে বাংলাদেশের বস্ত্র ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের ওপর আরোপ করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার’।

তারেক রহমান সরকারকে আরও জানানো হয়েছে, ‘আপনারা যদি হাসিনা ইস্যু নিয়ে আটকে থাকেন, তাহলে সুযোগ হাতছাড়া করবেন।’ অর্থাৎ, শেখ হাসিনা-সংক্রান্ত ইস্যুতে অতিরিক্ত জটিলতায় আটকে থাকলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বর্তমান সুযোগ নষ্ট হতে পারে বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো মনে করছেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের চেয়ে তারেক রহমানের একটি দ্বিপক্ষীয় সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশের আগ্রহ বেশি। কারণ, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় এবং সে কারণে সদস্য দেশগুলোর নেতাদের মূল গোলটেবিল বৈঠকে তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো সতর্ক করেছে, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের সদস্যরা চলতি মাসের শেষ নাগাদ দিল্লিতে আরেকটি সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করছেন। সূত্রগুলোর মতে, এমন কোনো আয়োজন দুই দেশের আলোচনায় তৈরি হওয়া ইতিবাচক ধারাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে দীর্ঘ সময় ধরে শীতলতা বিরাজ করছে। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ পানিবণ্টন ও কৌশলগত বিষয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে ভারতের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি আলোচনা করেনি।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ