প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিনের টানা মোতায়েন, কাজের চাপ ও ক্লান্তির মধ্যে এবার বড় ধরনের অস্থিরতার খবর এসেছে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে। রণতরিটিতে নাবিকদের মধ্যে সংঘর্ষে সাতজন মার্কিন নৌসদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম। তবে এই দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
মার্কিন নৌবাহিনী ও ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফলে নিহতের সংখ্যা এবং সংঘর্ষের বিস্তারিত নিয়ে তাসনিমের প্রতিবেদনের তথ্য এখনো দাবির পর্যায়েই রয়েছে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করায় আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের এক উপদেষ্টা রণতরিতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাবিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তার দিকে পানির বোতল ছোড়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর নাবিকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে ছুরি ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয় এবং এতে সাতজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের এই বিবরণও কোনো মার্কিন সরকারি সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং বাড়তি দায়িত্বের কারণে নৌসদস্যদের ওপর চাপ বাড়ছে, এমন সময়েই আব্রাহাম লিংকনকে ঘিরে এই খবর সামনে এলো। দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে রণতরিটির নাবিকদের মানসিক চাপ ও কর্মপরিবেশ নিয়েও এর আগে অভিযোগ উঠেছে।
এর আগে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড নিয়েও বিভিন্ন সমস্যার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এসব ঘটনার পর মার্কিন নৌবাহিনীতে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন, নাবিকদের মনোবল এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্য রয়েছেন। তারা গত ২১ নভেম্বর থেকে মোতায়েন রয়েছেন। তাদের অভিযান মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকায় নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, জাহাজ থেকে নামার সীমিত সুযোগ, যোগাযোগের সমস্যা এবং খাদ্য, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতিতে নাবিকদের অনেকেই চাপে রয়েছেন।
কয়েকজন নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বা আত্মক্ষতির চিন্তা করেছেন,এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। এক নাবিকের স্ত্রী মার্কিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একবার তিনি তার স্বামীকে এক সহকর্মীকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া থেকে আটকাতে সাহায্য করেছিলেন।
তবে মোতায়েনের সময় এ ধরনের কতটি ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনী কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সমুদ্রে থাকার কারণে অনেক নাবিক মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং দেশে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি ২০০ জনের বেশি পরিবারের সদস্য সান দিয়েগোতে নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানান।
নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাওসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, ক্লান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কথা শোনেন। নেভাল সারফেস ফোর্সের কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল জোসেফ কাহিলও দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর তৈরি হওয়া চাপের কথা স্বীকার করেছেন।
তবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনে নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় সহায়তা, চিকিৎসাকর্মী এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট মার্কিন সামরিক অভিযানে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রণতরিটির মোতায়েন মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে প্রস্তুত করছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে অভিযানগত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে লিংকনের বর্তমান মোতায়েন ঠিক কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এদিকে সাত নাবিক নিহতের দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মার্কিন নিশ্চিতকরণ না থাকায় ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়নি।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ