প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম (ভিজিট : ৩)

সংগৃহীত ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন দুপুরে ডনের পক্ষে আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করে, মামলার এজাহার ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ডনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। কথিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন আইনজীবীরা।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত ডনের জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।
এদিকে জামিন শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সালমান শাহ হত্যা মামলার বাদী ও তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম সাংবাদিকদের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের স্ক্রিনশট দেখান। তার অভিযোগ, ওই পোস্টের মাধ্যমে সালমান শাহর ভাই শাহরানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আলমগীর কুমকুমের দাবি, ‘মামুন’ নামে এক সালমান ভক্তের ফেসবুক লাইভের কমেন্টে ‘সাকিল কিবরিয়া’ নামের একটি আইডি থেকে ওই হুমকি দেওয়া হয়। স্ক্রিনশটে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে শাহরানকেও একইভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানিয়েছেন আলমগীর কুমকুম। তার ভাষ্য, সালমান শাহ হত্যা মামলাটিও রমনা থানায় হওয়ায় সেখানেই বিষয়টি জানানো হবে।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে আশরাফুল হক ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হাজতি আসামি হিসেবে কারাগারে রয়েছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তী সময়ে ঘটনাটি হত্যা হিসেবে তদন্ত ও মামলা পর্যন্ত গড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা তদন্তে বিভিন্ন সময় একাধিক ব্যক্তির নাম আলোচনায় আসে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, আশরাফুল হক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ