প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
দেশে বাংলা কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে নতুন প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে অনবোর্ড করা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারীদের বাংলা কিউআর ব্যবহার করে ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি) প্ল্যাটফর্মে করা লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা দেওয়া হবে।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারটি দেশের সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরের (পিএসও) প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় আনা, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহজ করা এবং দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য করার লক্ষ্যেই বাংলা কিউআরভিত্তিক পরিশোধব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনের প্রসারে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, নির্ধারিত লেনদেনের পরিমাণের ওপর অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে ০.২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিপরীতে মোট প্রণোদনার হার হবে ০.৩০ শতাংশ। তবে একজন মার্চেন্ট মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন।
প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কোনো একটি লেনদেনকে কৃত্রিমভাবে একাধিক ছোট লেনদেনে ভাগ করে প্রণোদনা নেওয়া যাবে না। একইভাবে Transaction Structuring-এর মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা বাড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্যর্থ (failed), বাতিল বা উল্টে দেওয়া (reversed), ফেরত দেওয়া (refunded), চার্জব্যাক (chargeback), বিতর্কিত (disputed) কিংবা পরবর্তী সময়ে বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন মনে করলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংশ্লিষ্ট লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিবন্ধন তথ্য ও অন্যান্য সহায়ক দলিল যাচাই ও পরিদর্শন করতে পারবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিল সরবরাহ করতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা ত্রুটিপূর্ণ লেনদেন দেখিয়ে ভুলভাবে প্রণোদনা নিলে তা ফেরত নেওয়ার ক্ষমতাও বাংলাদেশ ব্যাংক রেখেছে। প্রয়োজনে ভুলভাবে নেওয়া অর্থ পরবর্তী সময়ে প্রাপ্য প্রণোদনার সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে।
একই সঙ্গে কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিকসংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে তা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে। কৃত্রিমভাবে লেনদেন বাড়ানো, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে বলেও সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন এ নির্দেশনা আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
ডেল্টা টাইমস/ আরএফ