প্রকাশ: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম (ভিজিট : ৫)

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন পাসের হার হয়েছে। ২০২৫ সালে ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করলেও চলতি বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা। এ বছর বোর্ডে ৫২ হাজার ৭৫৬ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অনুপস্থিত ছিল ৪৬৩ জন। এ বছর বহিষ্কৃত হয়েছে ১০ জন পরীক্ষার্থী। তবে পরীক্ষা স্থগিত বা বোর্ড কর্তৃক স্থগিতের সংখ্যা ছিল শূন্য।
পাঁচ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির পাসের হার ছিল ৮৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে ৭৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ হলেও ২০২৫ সালে আবার কমে হয় ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ। আর ২০২৬ সালে বড় পতন ঘটে পাসের হার নেমে আসে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
চলতি বছর ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০২৫ সালে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৭১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৭২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
বেড়েছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী
পাসের হার কমার বিপরীতে গত পাঁচ বছরে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে অকৃতকার্য হয়েছিল ১৮ হাজার ৪৭০ জন। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা বেড়ে হয় ৩২ হাজার ৫৫৩ জন। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ২৪ হাজার ৯২৫ জন হলেও ২০২৫ সালে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯ হাজার ২৫৭ জনে। আর ২০২৬ সালে অকৃতকার্যের সংখ্যা বেড়ে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৭৫৬ জনে পৌঁছেছে।
শুধু এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২২ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য ছিল ১৪ হাজার ১৯৪ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৯ দশমিক ০৩ শতাংশ। ২০২৬ সালে এক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার ৭৯১ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২২ দশমিক ০৯ শতাংশ।
কমেছে জিপিএ-৫
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যাতেও পতন দেখা গেছে। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ৪৭ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে ১১ হাজার ৪৫০ জন, ২০২৪ সালে ১১ হাজার ৪০২ জন এবং ২০২৫ সালে ১১ হাজার ৮৪৩ জনে দাঁড়ায়। ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন। এর মধ্যে ছাত্রী ৫ হাজার ২৭৫ জন এবং ছাত্র ৪ হাজার ১২৩ জন।
বিভাগভিত্তিক ফলেও অবনতি
বিভাগভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণেও পাসের হার কমেছে। বিজ্ঞান বিভাগে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৯২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে হয়েছে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে পাসের হার ২০২৫ সালের ৫৫ দশমিক ০২ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
কমেছে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার উদ্বেগজনক। ২০২২ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭১টি। ২০২৩ সালে তা কমে ৪৫টি, ২০২৪ সালে ৪৬টি, ২০২৫ সালে ৩৩টি এবং ২০২৬ সালে মাত্র ২১টিতে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে শূন্য শতাংশ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোনো বিদ্যালয়ের পাসের হার শূন্য ছিল না। ২০২৫ সালে শূন্য শতাংশ পাস করা বিদ্যালয় ছিল একটি। চলতি বছর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটটিতে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পাসের হারের মধ্যে থাকা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ১৫১টি। ২০২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪৬৮টি। বিপরীতে ৫০ থেকে ৯৯ শতাংশ পাস করা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২০২৫ সালের ৯৭০টি থেকে কমে ২০২৬ সালে ৬৯৩টিতে নেমেছে।
অঞ্চলভিত্তিক ফলাফলেও পতন
চট্টগ্রাম মহানগরে ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ০৩ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে কমে হয়েছে ৭৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ২০২৫ সালের ৭৪ দশমিক ৯০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৬ সালে হয়েছে ৬৪ দশমিক ০৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন অন্যান্য জেলাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। কক্সবাজারে পাসের হার ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ থেকে কমে ৫৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, রাঙ্গামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ থেকে ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ হয়েছে।
এদিকে, ২০২৬ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮টিতে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৬৪টি। তবে পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২১৯টি থেকে কমে হয়েছে ২১৮টি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই