চাকরি হারানো কর্মীরা হারাতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগও

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার

2026-08-09T17:51:15+06:00
2026-08-09T17:51:15+06:00
রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসায় আসছে পরিবর্তন
চাকরি হারানো কর্মীরা হারাতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগও
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫১ পিএম   (ভিজিট : ৭)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম কার্যকর হলে চাকরি হারানো বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ বাতিলের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। বিশেষ করে, চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খুঁজে নিতে বিদেশি কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের জন্য বর্তমানে থাকা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বাতিল হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) এই ৬০ দিনের বিধান বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নিয়মে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পুরো বিস্তারিতও এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

নিয়মটি চূড়ান্ত হয়ে কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মী ও তাদের নির্ভরশীলদের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। অর্থাৎ, চাকরির ভিত্তিতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কর্মীরা চাকরি হারানোর পর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী যে অতিরিক্ত ৬০ দিনের সময় পান, সেই সুযোগ আর নাও থাকতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় প্রবাসীদের ওপর বিশেষভাবে পড়তে পারে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী ভারতীয়রা।

যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে অনুমোদিত এইচ-১বি আবেদনের ৭১ শতাংশ সুবিধাভোগী ছিলেন ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তি।

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে করা হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ৫২ লাখের বেশি।

৬০ দিনের নিয়ম কী?

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানো উচ্চদক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সময়সীমার নিয়ম চালু করা হয় ২০১৭ সালে। এর উদ্দেশ্য ছিল চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কিছুটা বাড়তি সুযোগ দেওয়া।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন-নির্ভর কর্মী চাকরি হারালে সর্বোচ্চ টানা ৬০ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে তাদের অনুমোদিত অবস্থানের মেয়াদ যদি এর আগেই শেষ হয়ে যায়, তাহলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যাবে না।

ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএনসহ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীরা এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন। তাদের নির্ভরশীলরাও এই সুবিধা পান।

চাকরি হারানোর পর এই ৬০ দিন কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজতে পারেন, নতুন ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার অন্য কোনো পথ বিবেচনা করতে পারেন।

তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যাওয়ার বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ হারাতে পারেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

যদিও বিশেষ পরিস্থিতিতে ইউএসসিআইএস তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারবে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রভাব শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ই-১, ই-২, ই-৩, এইচ-১বি১, এল-১, ও-১ এবং টিএনসহ অন্যান্য ভিসাধারীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। 

ডেল্টা টাইমস/ আরএফ 








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ