প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২১ পিএম (ভিজিট : ৩)

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, অস্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নির্মাণ শুরু এবং চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে জকসু নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
জকসু সূত্র জানায়, ইউজিসি চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের মৌলিক দাবিগুলো তুলে ধরতে জকসুর প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড নিয়ে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় অডিটোরিয়ামের প্রবেশমুখে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ও তার সমর্থকরা প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় তাদের বাধা দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে জকসু প্রতিনিধিদের হাত থেকে প্ল্যাকার্ড কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তাদের ওপর ধাক্কাধাক্কি ও হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে এলে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ড. কে. এ. এম. রিফাত হাসানও ধাক্কাধাক্কির শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
হামলায় জকসুর জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফসহ বেশ কয়েকজন জকসু প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ এক বার্তায় বলেন, "আমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও আমাদের অডিটোরিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। প্রক্টর অফিস ও ছাত্রদলের এহেন ভূমিকা অত্যন্ত নিন্দনীয়।"
অন্যদিকে, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ঘটনাটিকে "ন্যাক্কারজনক হামলা" উল্লেখ করে বলেন, "শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং জকসু প্রতিনিধিদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে। এই ছেঁড়া পোস্টার হাতে নিয়েই শিক্ষার্থীদের দাবি আদায় করা হবে।"
ঘটনার পর জকসু প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামের সামনে ছেঁড়া প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, "আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি নিয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান করছিলাম। কিন্তু প্রথমে মেহেদী হিমেলের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। পরে দ্বিতীয় দফায় মিছিল নিয়ে ভিসির কার্যালয়ের সামনে আবারও আমাদের ওপর আক্রমণ করা হয়। এতে ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া, ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফসহ কয়েকজন আহত হন। জকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ ফারুকের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।"
ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, "হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আমাকে মুখে, নাকে, হাতে ও পায়ে লাথি মারা হয়েছে। তারা এলোপাতাড়ি মারধর করে আমাদের কয়েকজনকে আহত করেছে।"