পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনিয়ম: টেন্ডার ছাড়াই ২৫ লাখ টাকার কাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অপরাধ

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাপশনিক)-এ আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের

2026-07-30T13:36:15+06:00
2026-07-30T13:37:29+06:00
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সচিবকে পাশ কাটিয়ে অর্থ ছাড়ের অভিযোগ
পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনিয়ম: টেন্ডার ছাড়াই ২৫ লাখ টাকার কাজ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পিএম  আপডেট: ৩০.০৭.২০২৬ ১:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ১)

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাপশনিক)-এ আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সংস্থার চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান, অর্থ উপদেষ্টা আজিজুল হক মজুমদার এবং কর্মকর্তা এস কে মাহাতাব উদ্দিন। তাঁদের বিরুদ্ধে টেন্ডার ছাড়া কাজ সম্পাদন, সচিবকে পাশ কাটিয়ে অর্থ ছাড়, নিয়মিত প্রক্রিয়া উপেক্ষা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংস্থার সচিব সঞ্জয় চক্রবর্তী চেয়ারম্যানের প্রস্তাবিত একটি অর্থ ছাড়ে বিধিগত আপত্তি জানানোর পর থেকেই তাঁকে কার্যত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর অর্থ উপদেষ্টা আজিজুল হক মজুমদার ও কর্মকর্তা এস কে মাহাতাব উদ্দিনের সমন্বয়ে দীর্ঘদিন ধরে সচিবকে এড়িয়ে অর্থ বিভাগ থেকে সরাসরি অর্থ ছাড়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রশাসন ও সংস্থাপন বিভাগের প্রধান হিসেবে সচিবের মাধ্যমে নথি নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। বরং নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য কর্মকর্তা ও শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন নথি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে, যা প্রচলিত বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এদিকে অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, দরপত্র আহ্বান ছাড়াই প্রায় ২৫ লাখ টাকার ডেকোরেশনের কাজ এবং ১৬ হাজার টাকার পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী এসব কাজের দরপত্র আহ্বানের কোনো বিজ্ঞপ্তি সংস্থার ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ডে প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, টেন্ডার ছাড়া অর্থ পরিশোধ বিধিবহির্ভূত হওয়ায় সচিব সঞ্জয় চক্রবর্তী সংশ্লিষ্ট ফাইলে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান, ফলে ঠিকাদার এখনো বিলের অর্থ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, পাওনা আদায়ের জন্য ঠিকাদার নিয়মিত চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেন্ডারসংক্রান্ত প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি।

অন্যদিকে কর্মকর্তা এস কে মাহাতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে সেবা প্রদান এবং উদ্যোক্তাদের হয়রানির অভিযোগও উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আমদানি-রপ্তানির ‘ই’ শ্রেণির লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে একসঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ না করে ধাপে ধাপে নতুন নতুন নথি চাওয়া হয়, যাতে আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং ঘুষ না দিলে আবেদন নিষ্পত্তি বিলম্বিত করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অনিয়মের বিষয়টি চেয়ারম্যানের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও নথি নিষ্পত্তি করা হলে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ধরনের অনিয়ম অব্যাহত থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলেও তাঁরা মনে করেন।

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান মাহামুদুল হাসান, অর্থ উপদেষ্টা আজিজুল হক মজুমদার এবং কর্মকর্তা এস কে মাহাতাব উদ্দিনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ