বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির দাবি, বিচারপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এইচআরডব্লিউ জানায়, মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দাখিলের পরিপ্রেক্ষিতে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সংস্থাটি বলছে, অতীতে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন হলেও বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড নিশ্চিত করা সমানভাবে জরুরি। অন্যথায় আইনের শাসন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার হওয়া উচিত। তবে অনেক ক্ষেত্রে বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণ করছে না। তিনি ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সুযোগ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংস্থাটির ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে কিছু সংশোধনী আনা হলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি রয়ে গেছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গ্রেপ্তারের নির্দেশ, দীর্ঘ সময় কারণ না দেখিয়ে আটক রাখা, অন্তর্বর্তীকালীন আপিলের সীমাবদ্ধতা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এইচআরডব্লিউ আরও অভিযোগ করেছে, কিছু মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাদের নেওয়া একাধিক সাক্ষ্যের জবানবন্দিতে একই ধরনের ভাষা হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। এছাড়া একটি মামলায় ঘুষের অভিযোগ উঠলেও তার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
শাপলা চত্বরের মামলায় দুই সাংবাদিককে আসামি করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ। সংস্থাটির দাবি, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের কারণ লিখিতভাবে জানানো হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
সবশেষে সংস্থাটি বলেছে, অতীতের অন্যায়ের বিচার করতে গিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।