প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৮ পিএম (ভিজিট : ৯)

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে দলটি, যার ফলে তিনি সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির শফিকুর রহমান। বৈঠকেই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে।
সাংবিধানিক জটিলতা
তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলেই এমপি পদ চলে যায় না — বিষয়টি নির্ভর করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়ে দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে এই অনুচ্ছেদে "দল থেকে বহিষ্কার" শব্দটির উল্লেখ নেই।
এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন, এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতেও স্পিকারের মাধ্যমে বিষয়টি ইসিতে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে— কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনের পর অযোগ্যতার প্রশ্ন বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আসন শূন্য হওয়ার বিতর্ক দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে, এবং সেক্ষেত্রে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে মন্তব্য করেন, গাজী নজরুল ইসলাম সংসদ সদস্য পদও হারাবেন, কারণ জামায়াত তাকে বহিষ্কার করেছে এবং তিনি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেননি — ফলে জামায়াত চাইলে তিনি সংসদ সদস্য পদে থাকতে পারবেন না।