বেনজীর ইস্যুতে দুদকের কাছে ৪ প্রশ্নের জবাব চাইল দুবাই পুলিশ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব

2026-07-21T20:15:45+06:00
2026-07-21T20:15:45+06:00
বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেনজীর ইস্যুতে দুদকের কাছে ৪ প্রশ্নের জবাব চাইল দুবাই পুলিশ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম   (ভিজিট : ৮)

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অন্তত চারটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব চেয়েছে দুবাই পুলিশ। শিগগিরই এসব বিষয়ে জবাব দেবে দুদক।


মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর বেনজীর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকার ও দুদকের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট পাঠিয়েছিলেন। সম্প্রতি দুবাই পুলিশ কয়েকটি বিষয়ে ক্লিয়ারেন্সের জন্য একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যা দুদকে এসে পৌঁছেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা শিগগিরই এর জবাব পাঠাবেন বলে জানান তিনি।


এর আগে গত ১৬ জুন বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক।


নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে কোনো আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র ও অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাবনা তৈরি করতে হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদনের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হয়।


যেভাবে জানা যায় গ্রেপ্তারের খবর

আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বহুল আলোচিত-সমালোচিত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি প্রথম জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আবুধাবিস্থ এনসিবি। গত ১২ জুন বাংলাদেশের এনসিবিকে এ বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়।


ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, ইউএইর 'ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত' ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। আইন অনুযায়ী প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আরবি ভাষায় অনূদিত, যথাযথ কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সিলযুক্ত নিম্নোক্ত তথ্য-নথি সংযুক্ত করতে হবে—


প্রত্যর্পণযোগ্য ব্যক্তির নাম, পরিচয়, ছবি (যদি থাকে), জাতীয়তা, ঠিকানা ও পরিচয় শনাক্তে সহায়ক অন্যান্য তথ্য; অভিযুক্ত অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, নির্ধারিত শাস্তি ও তামাদি-সংক্রান্ত বিধানের অনুলিপি; অনুরোধকারী দেশের বিচারিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারি করা আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা; মামলার বিস্তারিত বিবরণ, যেখানে অপরাধের প্রকৃতি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও অপরাধ সংঘটনের স্থান উল্লেখ থাকবে; তদন্তাধীন মামলার ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি এবং দণ্ডিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে আদালতের রায় বা দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপি, অপরাধের বিবরণ, আরোপিত শাস্তি ও রায় কার্যকরযোগ্য হওয়ার প্রমাণপত্র।


২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে 'রেড নোটিশ' জারি করে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)। দুর্নীতির দুই মামলার তদন্তকালে আদালতের নির্দেশনায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যুর জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল দুদক।


মামলার বিবরণ

২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১২ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়, যাতে ইতোমধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। দুদক উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের বাদী হওয়া এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, যার ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করা হয়।


দুদক সূত্রে জানা যায়, অনুসন্ধানকালে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ পেয়ে বেনজীর আইনজীবীর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট দুদকে সম্পদ বিবরণী জমা দেন। সেখানে তিনি ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর ও ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, তিনি ঘোষিত সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৬২ লাখ ৮৯ হাজার ৬০ টাকার তথ্য গোপন করেছেন এবং ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৬৪ হাজার ৭৫১ টাকার সম্পদের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত এই সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় ২০০৪ সালের দুদক আইনের ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।


ছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট নবায়ন ও জালিয়াতির অভিযোগে বেনজীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা হয়, যাতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ফজলুল হক, মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক ও বিভাগীয় পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন।


মামলার এজাহারে বলা হয়, ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাকালে বেনজীর হাতে লেখা পাসপোর্ট সমর্পণ করে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র ছাড়াই অফিসিয়াল মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) জন্য আবেদন করেন, যেখানে সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও পেশা হিসেবে "প্রাইভেট সার্ভিস" উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে র‍্যাবের মহাপরিচালক থাকাকালেও একই ধরনের তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট আবেদন করেন তিনি। পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার দাপ্তরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত থেকেও বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ যাচাই না করেই তার নামে পাসপোর্ট ইস্যুর অনুমোদন দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।


বেনজীর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ৪টি মামলাসহ পাসপোর্ট জালিয়াতি মানিলন্ডারিং মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও বান্দরবানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩৪৫ বিঘা জমিসহ বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। এমনকি দুবাইয়ে থাকা তার দুটি ফ্ল্যাট ও ব্যাংক হিসাবও জব্দ করেছে সংস্থাটি।

গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি অবগত করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত বেনজীরকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ শুরু করে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এনসিবি ঢাকা এই মর্মে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ ইন্টারপোলে আবেদন করে। ইন্টারপোল ২০২৫/২৩৯ নম্বর ফাইল ও ৫৭৪/২০২৫ কন্ট্রোল নম্বরের মাধ্যমে বেনজীরের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায়।

ন্ত্রী আরও বলেন, গত ১২ জুন ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ ও এনসিবি আবুধাবি থেকে পাঠানো ই-মেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়, বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি সেখানে আটক রয়েছেন।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ