প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম (ভিজিট : ১৯)

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বিএমইউ) একটি বিশ্বমানের চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেন, রোগীদের যেন আর বেসরকারি হাসপাতালে পাঠাতে না হয়, বরং গর্ব করে বলা যায়—রোগীকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিএমইউ-এর ডা. মিলন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএমইউ-এর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, এমপি এবং বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডাক্তার এফ এম সিদ্দিকী।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ডা. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন নির্ভীক ও নীতিনিষ্ঠ একজন মানুষ। ছাত্রজীবনে ১৯৭৮-৭৯ সালে মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলাকারীদের একাই প্রতিহত করার ঘটনা এবং ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় তাঁর সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসংক্রান্ত একটি দলের সদস্য হিসেবেও কাজ করেছিলেন ডা. কুদ্দুস বলে জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ডা. কুদ্দুসের সততার কারণে প্রতিষ্ঠানের বহু অর্থ সাশ্রয় হয়েছিল, যা একজন সৎ কর্মকর্তার বাস্তব দৃষ্টান্ত।
বক্তব্যে মন্ত্রী রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার আসনে থাকা প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত যে এই আসন স্থায়ী নয়; তাই দায়িত্বে থাকাকালীন ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই কর্তব্য। দুর্যোগে সংবিধানের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও মানবিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, এ প্রসঙ্গে সাম্প্রতিক পাহাড়ধস ও দিনাজপুরে বৃষ্টিতে ঘরচাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনার উদাহরণ টানেন।
বর্তমান সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পরপরই রমজান এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার পরিস্থিতি সামলে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশ থেকে প্রায় ২৮২ থেকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুদ্রাস্ফীতি কমছে এবং অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরছে।
কিছু পত্রিকায় সরকারের "কাউন্টিং ডেজ" নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালেও এক স্বৈরশাসক বিএনপিকে ১০টি আসনও না পাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, কিন্তু সেবার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলটি ক্ষমতায় এসেছিল। একইভাবে সাম্প্রতিক নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জনগণের সমর্থন পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে মন্ত্রী বিএমইউ-এর উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের সেরা মেডিকেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে জ্ঞান, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকেই একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এভাবে এগোলে একদিন বিএমইউ হবে বাংলাদেশের "অক্সফোর্ড বা হার্ভার্ড স্কুল অব মেডিসিন"।
স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এ কে এম আজিজুল হক, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডাঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম শাকিল।