টেকসই ভবন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়নে সরকার-জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগ

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

দেশে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই ভবনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকায় এইচবিআরআই-ডেশ

2026-07-20T17:34:20+06:00
2026-07-20T17:34:20+06:00
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

টেকসই ভবন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়নে সরকার-জাতিসংঘের যৌথ উদ্যোগ
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম   (ভিজিট : ২৫)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

দেশে জাতীয় পর্যায়ে টেকসই ভবনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকায় এইচবিআরআই-ডেশ (ডিজাইন ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবল হ্যাবিট্যাটস) বাস্তবায়নবিষয়ক এক অংশীজন পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকার, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এইচবিআরআই)-এর নেতৃত্বে ইউএন-হ্যাবিট্যাট, ইউএনইপি এবং ইউএনওপিএস-এর সহযোগিতায় কর্মশালার আয়োজন করা হয়। জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) অর্থায়নে পরিচালিত ‘টেকসই উপকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্মাণ খাত রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালায় এইচবিআরআই-ডেশ এবং এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ডেশবোর্ড বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য দেশীয় বাস্তবতাভিত্তিক একটি টেকসই ভবন মূল্যায়ন ও লেবেলিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা সাশ্রয়ী, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভবন নির্মাণে সহায়ক হবে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মোছা. ফেরদৌসী বেগম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং এইচবিআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. গিয়াসউদ্দিন হায়দার।


এছাড়া ‘বাংলাদেশে টেকসই ভবন এগিয়ে নেওয়া: নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক পথ ও এইচবিআরআই-ডেশ বাস্তবায়নে অর্থায়ন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আবদুল আউয়াল এবং রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম। এতে নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং অর্থায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় হয়।


কর্মশালায় জানানো হয়, ইউএনইপি ও গ্লোবালএবিসি-এর ২০২৫-২৬ সালের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী জ্বালানিসংশ্লিষ্ট মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৩৭ শতাংশ এবং বৈশ্বিক উপকরণ আহরণের প্রায় অর্ধেকের জন্য ভবন ও নির্মাণ খাত দায়ী।


আলোচনায় আরও জানানো হয়, বিশ্বের দ্রুত নগরায়ণশীল দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশে গত দুই দশকে শহুরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৭ সালের মধ্যে দেশের অধিকাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করবে। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে আবাসনের চাহিদা দাঁড়াবে প্রায় এক কোটি পাঁচ লাখ ইউনিটে।


কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি), আবাসন খাতের উদ্যোক্তা, নির্মাণশিল্পের প্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে মোছা. ফেরদৌসী বেগম বলেন, এইচবিআরআই-ডেশ শুধু একটি কারিগরি কাঠামো নয়; এটি টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশের নিজস্ব একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম। সরকার, বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভবন নির্মাণে একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।


কর্মশালা থেকে প্রশাসনিক কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অর্থায়ন, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক সুপারিশ উঠে আসে। এসব সুপারিশ এইচবিআরআই-ডেশ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা, পাইলট কার্যক্রম এবং পর্যায়ক্রমিক জাতীয় বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি নিম্ন-কার্বন, সম্পদ-সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহিষ্ণু নির্মিত পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ