
সংগৃহীত ছবি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেফতার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, একই ব্যক্তি একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন না। এ কারণে মোজাফফর হোসেনকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হবে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তবে মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার হয়নি। সম্প্রতি তাকে গ্রেফতারের পর সেনা আইনে বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্বে দণ্ডিত আসামিদের মামলার রায়ে মোজাফফর হোসেন সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা ফাইন্ডিংস থাকলে, জেনারেল কোর্ট মার্শাল তা বিবেচনায় নেবে। একই মামলায় তাকে নতুন করে সিভিল কোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা আইনসম্মত হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে।
মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরাকান আর্মি, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশের সীমান্তেও পড়ছে। মাদক পাচার, গোলাগুলির স্পিলওভার এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারত থেকে কথিত 'পুশইন' প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কাউকে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন, তাহলে ভারত সরকারকে কূটনৈতিক মাধ্যমে তালিকা দিতে হবে। জাতীয়তা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য কোনো উপায়ে কাউকে গ্রহণ করা হবে না।
বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র সংগ্রহসহ বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইনে ডগ স্কোয়াড ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন ইউনিট গড়ে উঠতে সময় লাগবে বলে আপাতত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া বিজিবির প্রশাসনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে বলে জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বন্যায় বিজিবির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও বাহিনীটির সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।
বিজিবি সদস্যদের পদক প্রদানের বিষয়ে তিনি বলেন, সাহসিকতা ও বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর পদক দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে পদকের পাশাপাশি সনদ বা অন্যান্য স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়েও সরকার বিবেচনা করবে।