আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা, লাফিয়ে পড়ে রক্ষা

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

সারাদেশ

সাভারের আশুলিয়ায় ইতিহাস পরিবহনের একটি চলন্ত (লোকাল) বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাসটির চালক ও হেলপারের

2026-07-19T17:45:37+06:00
2026-07-19T17:45:37+06:00
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টা, লাফিয়ে পড়ে রক্ষা
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ১৬)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

সাভারের আশুলিয়ায় ইতিহাস পরিবহনের একটি চলন্ত (লোকাল) বাসে এক নারী পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাসটির চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে। সে সময় নিজেকে রক্ষা করতে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই নারী।


পরে তিনি মামলা করলে অভিযুক্ত বাসচালককে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ। তবে বাসের হেলপার এখনো পলাতক রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনোয়ার হোসেন।


গ্রেপ্তার বাসচালকের নাম মো. আজিজুল শিকদার ওরফে রাজু (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার হরিণহাটি এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে সাভারের রাজ ফুলবাড়িয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গাড়ি চালাতেন।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (২৭) আশুলিয়ার ইপিজেড-১ এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় জুনিয়র অপারেটর হিসেবে কর্মরত। গত ১২ জুলাই দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে আশুলিয়াগামী ইতিহাস পরিবহনের একটি লোকাল বাসে ওঠেন তিনি।


বাসটি শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী তুলতে দেননি। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, কিন্তু চালক বাস না থামিয়ে বরং দ্রুতগতিতে চালাতে থাকেন।


ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীপুর বাসস্ট্যান্ড ও ইপিজেড এলাকার মধ্যবর্তী একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে বাসের হেলপার জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়, আর চালক তাকে সহযোগিতা করেন। নিজেকে রক্ষার আর কোনো উপায় না দেখে চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে পড়েন তিনি, যাতে মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হন। পরে অন্য একটি বাসের সহায়তায় আশুলিয়ায় এসে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পরদিন থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।


পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন সূত্র বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত চালকের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাসটি জব্দ এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং পলাতক হেলপারকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ