প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৮ এএম (ভিজিট : ১৩)

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের মধ্যকার শেষ ১৬-এর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি কেবল মাঠের ফুটবল রোমাঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকল না; ম্যাচ শেষে তা রূপ নিল রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনায়।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মিসরের ফিলিস্তিনপন্থী কোচ হোসাম হাসান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির চিত্র দেখা গেছে। চলতি বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পক্ষে শুরু থেকেই সোচ্চার ছিলেন মিসরীয় কোচ হোসাম হাসান।
গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা গায়ে জড়িয়ে জয়োৎসব করেছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ফারাওদের বিদায়ের পর গ্যালারি থেকে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা হোসাম হাসানকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক আচরণ করতে শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, গ্যালারির একটি অংশ থেকে কিছু আর্জেন্টাইন সমর্থক মিসরীয় কোচের দিকে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করছেন। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এই প্রতীক দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি হোসাম হাসান।
অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত অবস্থায় তিনি গ্যালারির দিকে আঙুল উঁচিয়ে নিজের শার্টে থাকা মিসরীয় ফুটবল ফেডারেশনের লোগো প্রদর্শন করে জবাব দিতে থাকেন। অন্য একটি কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জয়ের উল্লাসের মাঝে মিসরীয় দল যখন মাঠ ছাড়ছিল, তখন ইচ্ছাকৃতভাবেই ইসরায়েলি পতাকা বারবার নাড়ানো হচ্ছিল।
ঐতিহাসিকভাবেই মিসর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিকে জোরালো সমর্থন দিয়ে আসছে এবং গাজা সংকটে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী। হোসাম হাসান এই বিশ্বকাপে ফিলিস্তিনের পক্ষে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর তিনি বলেছিলেন, ‘এই বিজয় পুরো মিসরের জন্য এবং আমরা সব আরব ও আফ্রিকানদের গর্বিত করছি। আমরা দেখেছি ফিলিস্তিনের মানুষ আমাদের জয়ে কতটা খুশি হয়েছে। আমি এই জয় মিসর ও ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করছি।’
তার এই সাহসী অবস্থানের কারণে গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত সাধারণ মানুষ মিসরীয় পতাকা হাতে বড় পর্দায় খেলা দেখেছে এবং ধ্বংসস্তূপের ওপর কোচের বড় ব্যানার টাঙিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও নিজের এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন মিসরীয় কোচ। যুদ্ধকে বিশ্ব মানবতার জন্য এক বড় লজ্জা আখ্যা দিয়ে হোসাম হাসান বলেছিলেন, ‘যদি কেউ ফিলিস্তিনি জনগণের কষ্ট অনুভব করতে না পারে, তবে বুঝতে হবে তার মধ্যে ন্যূনতম মনুষ্যত্ব বা মানবতাবোধ নেই। এই সংহতি আমার ভেতর থেকে এসেছে কারণ আমি একজন মানুষ, ঠিক যেমন মানুষ সেখানে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে। এটি শুধু আরব বিশ্বের জন্য নয়, পুরো পৃথিবীর জন্য একটি লজ্জার বিষয়।’
মাঠে আর্জেন্টিনার কাছে মিসরের রূপকথা থামলেও, মাঠ ছাড়ার সময় রাজনৈতিক উসকানির মুখে হোসাম হাসানের এমন কড়া প্রতিক্রিয়া ফুটবল বিশ্বে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই