মিশরের গোল বাতিল ও সালাহ’র পেনাল্টি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

খেলাধুলা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় এখন ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত আলোচনায় পরিণত হয়েছে।

2026-07-08T09:34:33+06:00
2026-07-08T09:34:33+06:00
বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩

বিতর্কের মুখে আর্জেন্টিনার জয়
মিশরের গোল বাতিল ও সালাহ’র পেনাল্টি নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড়
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম   (ভিজিট : ২০)

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-২ গোলের জয় এখন ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত আলোচনায় পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর ভূমিকা। বিশেষ করে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহর সম্ভাব্য পেনাল্টির দাবি নাকচ হওয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

ম্যাচটি যখন ২-২ সমতায়, তখন ৯২তম মিনিটে ঘটে সেই আলোচিত ঘটনা। মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ বল নিয়ে আর্জেন্টিনার বক্সের ডান প্রান্তে ঢুকে শট নেওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন। এ সময় তার পা থেকে বল কেড়ে নিতে পেছন থেকে আলতো ট্যাকল করেন আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু ওই ট্যাকলের সালাহর পায়ের গোড়ালিতে আঘাত করে। আলভারেজ পায়ের সঙ্গে বলের সংযোগ হয়নি। সালাহ পড়ে যান মাটিতে। 

সালাহরা পেনাল্টির দাবি জানালেও রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে তাতে সাড়া দেননি। উল্টো বল নিয়ে মুহূর্তে কাউন্টার অ্যাটাক তোলে আর্জেন্টিনা। লাওতারো মার্টিনেজ মিশরের অর্ধে বল পেয়ে বা প্রান্ত থেকে লম্বা ক্রস করে পাস দেন বক্সে। হেড করে জালে বল পাঠান এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলেই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটে।  

মিশরের ক্ষোভ আরও বাড়ে দ্বিতীয়ার্ধের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে। দ্বিতীয়ার্ধের ৬০ মিনিটে নিজেদের অর্থ থেকে বল টেনে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে অসাধারণ এক গোল করেন মিশরের স্ট্রাইকার মোস্তাফা জিকো। ভিএআর পর্যালোচনার পর এনজো ফার্নান্দেজের ওপর আগের একটি ফাউলের অভিযোগে সেটি বাতিল করা হয়। কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সালাহ’র ক্ষেত্রে একই প্রযুক্তির শরণাপন্ন না হওয়ায় রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মিশরীয়দের অভিযোগ, নিজেদের গোল বাতিলের ক্ষেত্রে ভিএআর ব্যবহার করা হলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সালাহর সম্ভাব্য পেনাল্টির ঘটনায় একইভাবে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার হয়নি। তাদের দাবি, ওই ঘটনা ভিএআরে পর্যালোচনা করা হলে পেনাল্টি পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হলো উল্টোটা। আর্জেন্টিনার নামে লেখা হলো দুর্দান্ত কাউন্টার, গোল এবং কামব্যাকে রূপকথার জয়। 

এই ঘটনার পর মাঠেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের কোচ হোসাম হাসান ও খেলোয়াড়রা। মাঠের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রেফারির সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ করায় সুবাইর, ফাতি, হাইসেন হাসানসহ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় এবং কোচ হোসাম হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন এ নিয়ে চলছে উত্তাল বিতর্ক। মিশরের সমর্থকরা এই জয়কে 'চুরি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, সালাহ’র পেনাল্টিটি দেওয়া হলে ম্যাচের ফলাফল ভিন্ন হতে পারতো। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দাবি, আলভারেজের ট্যাকলটি ছিল বলের দখলের লড়াইয়ে স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শ, যা কোনো পেনাল্টির যোগ্যতা রাখে না।

কিন্তু বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারির এই 'সিদ্ধান্ত' শেষ পর্যন্ত ফুটবলের প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল। ১২ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালে নামার আগে আর্জেন্টিনাকে এই বিতর্কের বোঝা মাথায় নিয়েই সুইজারল্যান্ডের মোকাবিলা করতে হবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ