জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে: অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

অর্থনীতি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘দেশের জ্বালানি খাত দুষ্টচক্রে বন্দি। পুরো

2026-05-17T20:10:24+06:00
2026-05-17T20:10:24+06:00
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে: অর্থ উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ৮:১০ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘দেশের জ্বালানি খাত দুষ্টচক্রে বন্দি। পুরো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে অলিগার্কি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে খাতটি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এতে করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে বরং আমদানিনির্ভরতা বেড়েছে। একটা দুষ্টচক্রে আমরা বন্দি, যেই চক্র থেকে ভেঙে বেরিয়ে আসতে হবে।’ 

রবিবার (১৭ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘আসন্ন বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি : প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপের যৌথ আয়োজন করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও ঢাকা স্ট্রিম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

রাশেদ আল তিতুমীর বলেন, ‘উৎপাদন সক্ষমতা ও তার ব্যবহার—এই দুইয়ের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক তৈরি হওয়ায় বিপুল পরিমাণ জনগণের সম্পদ অপচয় হচ্ছে, যার একটি বড় উদাহরণ ক্যাপাসিটি চার্জ।’

তিনি বলেন, ‘আগে যেসব চুক্তি করা হয়েছে, সেই চুক্তিগুলো নিয়মনীতি মেনে করা হয়নি। এসব চুক্তিকে আইনের মাধ্যমে আড়াল করা হয়েছে, যা প্রকৃত ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ ধরনের চুক্তি এবং নীতিগত দুর্বলতা জ্বালানি খাতে একটি অলিগার্কিক কাঠামো তৈরি করেছে।’

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনি আরো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানির দাম বাড়লেও সরকার চাইলে সহজে মূল্য সমন্বয় করতে পারে না। কারণ এতে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়ার ঝুঁকি থাকে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

জ্বালানি খাতের এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। প্রথমত, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ভোক্তার আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি যৌক্তিক মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনে জোর দিতে হবে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা সাময়িকভাবে আমদানিনির্ভর হলেও উৎপাদনের দিকে যেতে চাই। আমাদের স্বনির্ভরতার দিকে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দেশীয় শিল্প গড়ে তুলতে হবে।’

চতুর্থত, দেশীয় জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। পঞ্চমত, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সুস্পষ্ট ‘বেঞ্চমার্ক’ নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে কোনো নীতি কাঠামো গৃহীত হয়নি। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই কাঠামোগত সমস্যার সমাধান না হলে সরকারকে ভর্তুকি দিয়েই যেতে হবে।


ডেল্টা টাইমস্/আইইউ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ