জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো: লাইন কমবে নাকি ভোগান্তি বাড়বে?

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

অর্থনীতি

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ ও পেট্রোল

2026-04-19T09:26:18+06:00
2026-04-19T09:26:18+06:00
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো: লাইন কমবে নাকি ভোগান্তি বাড়বে?
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: রোববার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৬ এএম   (ভিজিট : ১৩৪)
জ্বালানি তেল পেতে দীর্ঘ সময় ধরে পাম্পে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালকরা/ ফাইল ছবি

জ্বালানি তেল পেতে দীর্ঘ সময় ধরে পাম্পে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল চালকরা/ ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ ও পেট্রোল ১৩৫ টাকা করা হয়। মধ্যরাত থেকে নতুন এই দাম কার্যকর শুরু হয়। এ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার পর আবারও সামনে এসেছে পুরোনো প্রশ্ন- দাম বাড়লে কি সংকট কমবে, নাকি পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তি থেকেই যাবে?

মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার আগের রাতেও গত কয়েক দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় দেখা গেছে। গুলশান, মধ্যবাড্ডা, তেজগাঁও, রমনা, ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায় প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

অনেকেই রাতেই সিরিয়াল দিয়ে পরদিন তেল নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, যা নগর জীবনের এক নতুন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবরে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মোটরসাইকেল চালক সোহেল বলেন, লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ায় তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তবে দাম বাড়ার পরও যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় ভোগান্তি।

এই বক্তব্যেই যেন ধরা পড়ে সাধারণ ভোক্তাদের মূল উদ্বেগ দাম নয়, বরং প্রাপ্যতা ও সময়ের অপচয়।

গত কয়েক দিন ধরে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যবৃদ্ধি হলে কিছুটা চাহিদা কমতে পারে। অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমে গিয়ে সাময়িকভাবে চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শুধু দাম বাড়িয়ে সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়বে পরিবহন খাতে, যা শেষ পর্যন্ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোগান্তির মূল কারণগুলো হলো সরবরাহ ঘাটতি, দুর্বল বিতরণ ব্যবস্থা এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা। তাদের ভাষায়, লাইন শুধু দামের কারণে নয়, বরং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রতিফলন।

বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টরা যে তিনটি সম্ভাবনার কথা বলছেন তা হলো:

১. সরবরাহ বাড়লে: সরকার দ্রুত সরবরাহ বাড়াতে পারলে লাইনের চাপ কমে আসবে।
২. সরবরাহ অপরিবর্তিত থাকলে: দাম বাড়লেও লাইনের চিত্র তেমন বদলাবে না; বরং সীমিত জ্বালানির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে
৩. আতঙ্ক বাড়লে: গুজব বা অনিশ্চয়তা বাড়লে মানুষ বেশি তেল মজুত করার চেষ্টা করবে, ফলে লাইনের দৈর্ঘ্য আরও বাড়তে পারে।

ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ