প্রকাশ: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪১ পিএম (ভিজিট : ৯)

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন এলাকায় চাঞ্চল্যকর আসাদুল হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জড়িত মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মুন্না (২৪), মো. আকতার হোসেন (৪৫), মো. মিরাজ ফকির (২২) ও মো. নয়ন ওরফে খোকন (২৪)।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২:৫০ ঘটিকায় মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজারের সাদেক খানের ইটখোলা এলাকায় রিপনের ওয়ার্কশপের সামনে রাস্তায় ভিকটিম আসাদুল ওরফে লম্বু আসাদুলের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ধারালো চাকু এবং ইট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন ভিকটিম। পরে পুলিশ আশেপাশের লোকজনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আসাদুলের চাচাতো বোন অঞ্জু আক্তার বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, মামলা রুজুর পর মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি টিম গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় ও পরবর্তীতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আাটক করে। পরবর্তীতে তাদের হেফাজত হতে একটি মোটরসাইকেল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম আসাদুল ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আসামি আকতার হোসেনকে একসময় নিহত আসাদুল মারধর করে গুরুতর আহত করে এবং সেই ঘটনায় মামলাও হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যা করা হয় বলে আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। এছাড়া টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়েও তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। গ্রেফতারকৃত মুন্নার বিরুদ্ধে মাদক ও ছিনতাইয়ের সাতটি, মিরাজের বিরুদ্ধে একটি এবং নয়নের বিরুদ্ধে দুইটি মাদক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।