প্রকাশ: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২৫ এএম (ভিজিট : ৬০৫)

বামে অভিযুক্ত দুই ভাই নিজাম ও সায়েম, ডানে হামলার শিকার আব্দুল জলিল এবং ইনসেটে সাংবাদিক আজাদ।
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় প্রবাসী সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবুল কালাম আজাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে গত ২৫ মার্চ ২০২৬, বিকেল প্রায় ৩টার দিকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে হামলা চালানো হয়। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় নিজাম উদ্দিন (৫০) ও আবু ছায়েমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে ২৫–৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও হাতুড়ি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় আহত হন আব্দুল জলিল (৬০), তার ছেলে মাইনুদ্দিন (২৮), সোহাগ হোসেন (২৫) ও রবিউল আলম (২০)। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পরও হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি রক্তমাখা কাপড় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
নিরাপত্তাহীনতার কারণে আহতরা দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে দৌলতখান থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি; বরং একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে ভোলা জেলা ডিবির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে সরে যায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন বলেন, “চিৎকার শুনে গিয়ে দেখি, কয়েকজন আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন এবং ২৫–৩০ জন লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ঘিরে রেখেছে।”
এদিকে প্রবাসী সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, দেশে থাকাকালীন তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তার পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরও একই ব্যক্তিরা তার বাড়ির প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে এবং তার চাচাতো ভাইকে মারধর করে। ওই ঘটনায় মামলা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি দেশে ফিরলে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।” অভিযোগের বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই