সন্তানকে ত্যাজ্য করার বিষয়ে ইসলাম কি বলে?

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

ধর্ম

পিতা-পুত্রের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। অনেকের বহু চেষ্টা করেও সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয় না। সন্তানের আশায় আশায় সারাটা

2026-04-15T16:25:25+06:00
2026-04-15T16:25:25+06:00
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

সন্তানকে ত্যাজ্য করার বিষয়ে ইসলাম কি বলে?
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম   (ভিজিট : ৩৪)
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

পিতা-পুত্রের সম্পর্ক সবচেয়ে গভীর। অনেকের বহু চেষ্টা করেও সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য হয় না। সন্তানের আশায় আশায় সারাটা জীবন কেটে যায়। আবার এর ব্যতিক্রম চিত্রও দেখা যায়। সন্তানের সামান্য অপরাধে ত্যাজ্য করেন কেউ কেউ।

ইসলামে সব বিষয়ের রয়েছে সুষ্ঠু সমাধান। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘রক্ত সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি: ৫৯৮৪)
 
আরেক হাদিসে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না (অর্থাৎ তাকে অস্বীকার করো না)। কারণ যে লোক নিজের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কুফরি করে।’ (মুসলিম: ৬২)

জেনে শুনে যে নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেয়, তার ওপর জান্নাত হারাম। (বুখারি: ৩৩১৪)

যে সকল নিয়ম ও কাজ বংশ মিথ্যা সাব্যস্ত করে, শরিয়তে তার সবই হারাম। কেউ আছে, স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া বাঁধলে একেবারে দিশাহীন হয়ে তার বিরুদ্ধে জিনার অপবাদ দেয় এবং কোনো প্রমাণ ছাড়াই নিজ সন্তানের পরিচয় অস্বীকার করেন; অথচ তিনি ভালোভাবেই জানেন যে, সন্তানটি তারই ঔরসে জন্ম নিয়েছে। আবার অনেক নারী আছেন, যারা স্বামীর আমানতের খেয়ানত করে অন্যের দ্বারা গর্ভবতী হন এবং সেই সন্তানকে স্বামীর বৈধ সন্তান হিসেবে তার বংশভুক্ত করেন। এসবই হারাম। এ বিষয়ে কঠোর তিরস্কার উচ্চারিত হয়েছে। লিয়ানের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ مَنْ لَيْسَ مِنْهُمْ، فَلَيْسَتْ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ، وَلَنْ يُدْخِلَهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ، وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ، وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ، احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ، وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ অর্থ: যে নারী কোনো সন্তানকে এমন কোনো গোত্রভুক্ত করে দেয় যে আসলে ওই গোত্রভুক্ত নয়, আল্লাহর কাছে তার কোনোই মূল্য নেই এবং আল্লাহ তাকে কখনই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ নিজ সন্তানের পিতৃত্ত অস্বীকার করবেন এমতাবস্থায় যে সে তার দিকে তাকিয়েও আছে; আল্লাহ তার থেকে পর্দা করে নিবেন এবং পূর্ববর্তী-পরবর্তী সকলের সামনে তাকে অপদস্থ করবেন। (আবু দাউদ: ২২৬৩)

কোনো সন্তান যদি মা-বাবার অবাধ্য হয়ে থাকে তাহলে সে কবিরা গুনাহ করার কারণে ফাসেক হিসেবে গণ্য হবে। তাই বলে উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে না। একইভাবে মা-বাবা তার সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কারণে গুনাহগার হবেন। এক্ষেত্রে উভয়পক্ষকে নমনীয় হতে হবে এবং সাধ্যের বাইরের কাজের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।
 
তবে সন্তান যদি ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায় অথবা অন্যায়ভাবে মা-বাবাকে হত্যা করে তাহলে সে উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। কেননা রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কাফেরের ওয়ারিশ হবে না, আর কাফেরও মুসলিমের ওয়ারিশ হবে না। (বুখারি ৬৭৬৪, মুসলিম ১৬১৪)


ডেল্টা টাইমস্/আইইউ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ