দুই সাব-রেজিস্ট্রারের বেপরোয়া কার্যকলাপ, বিতর্কে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার

বিশেষ প্রতিনিধি :

অপরাধ

ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, দলিল সম্পাদনে অনিয়ম ও ঘুস বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা রেজিস্ট্রারসহ

2026-05-16T19:40:49+06:00
2026-05-16T19:40:49+06:00
শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দুই সাব-রেজিস্ট্রারের বেপরোয়া কার্যকলাপ, বিতর্কে ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম   (ভিজিট : ১৩৭)

ঢাকা জেলার রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনে জমির শ্রেণি পরিবর্তন, দলিল সম্পাদনে অনিয়ম ও ঘুস বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জেলা রেজিস্ট্রারসহ গুলশান ও মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মুন্সি মোখলেছুর রহমান, আব্দুল কাদের এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। ২০২৬ সালের ৩ মে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১০.৬৬ কাঠা জমির একটি সাব-কবলা দলিল সম্পাদন করা হয় (দলিল নম্বর ৩৪৫৯)। 

অভিযোগে বলা হয়েছে, বাস্তবে জমিটি বসতভিটা হলেও দলিলে সেটিকে ‘নাল জমি’ হিসেবে দেখানো হয়। এতে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি ও দলিল প্রক্রিয়ায় চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। 

অভিযোগকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় দাতা পক্ষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দলিল সম্পাদনে বাধ্য করা হয় এবং সরকারি রাজস্বের একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার অন্তত ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং কিছু ক্ষেত্রে তিনি অনিয়মে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন—এমন অভিযোগও করা হয়েছে। 

সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অডিট ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অফিস থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অনিয়ম ও দলিল জালিয়াতির বিষয়গুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। 

অভিযোগে আরও বলা হয়, অফিসে স্ক্যানার মেশিন স্থাপনসহ কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রচলিত বিধির বাইরে গিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দলিল সম্পাদনে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

একাধিক সূত্রের দাবি, কিছু সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের মাধ্যমে দলিল প্রক্রিয়া দ্রুত করার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। 

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই চক্রকে প্রশ্রয় দিয়ে প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের একটি পৃথক অভিযোগে আশুলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুস গ্রহণ ও দলিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। 

অভিযোগে বলা হয়, সেখানে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত হলে রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনের ভেতরের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পৃথকভাবে দুইটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগগুলোর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও দেওয়া হয়েছে।

রেজিস্ট্রেশন বিভাগে ঘুস ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা বা চার্জশিটের তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ চলতে থাকায় পুরো রেজিস্ট্রেশন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


ডেল্টা টাইমস্/সিআর/আইইউ








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ