প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১৯৯)

ভোরবেলা যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারে না। তিনি মো. নুর আলম, পঞ্চগড় জেলার এক সংবাদপত্র বিক্রেতা। দীর্ঘ ৩০বছর ধরে এভাবেই মানুষের দোরগোড়ায় খবর পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।
মো. নুর আলম বাড়ি বোদা উপজেলার ২নং ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বেতবাড়ি গ্রাম থেকে প্রায় বার কিলোমিটার দূরে পঞ্চগড় বাজার। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তিনি ছুটে চলেন পঞ্চগড় পেপার হাউজের দিকে। বগুড়া থেকে পত্রিকার গাড়ি আসে সকালবেলা এবং দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে ঢাকা থেকে পত্রিকার গাড়ি এলে পত্রিকা নামিয়ে একে একে প্যাকেট খুলে তা সাজিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর মূল কর্মব্যস্ততা। সকাল সাতটা বাজতে না বাজতেই গ্রাহকদের ফোনের ভিড় জমে। "পত্রিকা কখন আসবে?" এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই তিনি বাইক নিয়ে ছুটে চলেন পৌর শহরের বিভিন্ন অফিস ও বাসা বাড়িতে।
পত্রিকা শিল্পের বর্তমান নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকা এজেন্ট মো. আমিনার রহমান জানান, "এক সময় পত্রিকা বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু এখন অনলাইনের প্রভাবে মানুষ মুঠোফোনেই খবর পড়ে নেয়। ফলে আগের তুলনায় গ্রাহক অনেক কমে গেছে। একদিকে বিক্রি কম, অন্যদিকে আমাদের কমিশনও এখন অনেক নগণ্য। ফলে এই পেশার সাথে জড়িতদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. জয়নুল ইসলাম বলেন, "নুর আলমের মতো সংবাদপত্রের হকাররা মূলত আমাদের সংবাদ শিল্পের প্রাণভোমরা। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে খবর পৌঁছে দেওয়া এক অন্যরকম লড়াই। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমলেও নুরআলমের গুরুত্ব কমেনি।
পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের পর্যটন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক সাবিব বলেন, বৈধ্য সীমিত আয়ে জীবন যাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পেশার মানুষদের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যাতে তাদের এই নিরলস সেবা অব্যাহত থাকে।
এই পেশায় টিকে থাকাটা এখন নুরআলমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। চার সদস্যের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে যে সামান্য টাকা আসে, তাতেই কোনোমতে দিন পার করেন তিনি। তবুও সংবাদপত্রের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কাজ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন।
অন্যান্য পেশার মানুষেরা ঈদে বোনাস বা বাড়তি আয়ের সুযোগ পেলেও নুরআলমের কপালে তা জোটে না। পত্রিকা বিলি করে যাদের জ্ঞানপিপাসা মেটান, তাদের কাছ থেকে ঈদ সালামি বা বিশেষ কোনো সহযোগিতাও তেমন একটা মেলে না তাঁর। তবুও তার কোনো অভিযোগ নেই, হাসিমুখেই বিলিয়ে যান প্রতিদিনের টাটকা খবর।
ডেল্টা টাইমস/মো. মিজানুর রহমান/সিআর/এমই