বুড়িগঙ্গার তীর প্লাস্টিকমুক্ত করার নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আইন-আদালত

বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ বন্ধে ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য

2026-11-08T15:54:48+06:00
2026-11-08T15:54:48+06:00
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বুড়িগঙ্গার তীর প্লাস্টিকমুক্ত করার নির্দেশ হাইকোর্টের
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: রোববার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ০)
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ বন্ধে ঢাকার লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নদীর তীরে যাতে কেউ প্লাস্টিকসহ কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শুনানি শেষে এ নির্দেশ দেন।

আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।

আদালতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পক্ষ থেকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এতে ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীর থেকে প্রায় ৩০০ টন বর্জ্য অপসারণের তথ্য তুলে ধরা হয়। তবে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য সম্পূর্ণ অপসারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে স্পষ্ট কোনো তথ্য ছিল না। একইভাবে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে কী ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাও উল্লেখ করা হয়নি।

শুনানিতে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সব বর্জ্য অপসারণের বিষয়টি প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। এ ছাড়া ভবিষ্যতে নদীর তীরে প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তারও উল্লেখ নেই। এ কারণে দাখিল করা প্রতিবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয়।

শুনানি শেষে আদালত বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নদীর তীর থেকে সব প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আগামী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়। বিআইডব্লিউটিএর দাখিল করা প্রতিবেদন গ্রহণ না করে তা নথিভুক্ত করার আদেশ দেন আদালত।

এর আগে বুড়িগঙ্গা নদীর পানি দূষণ বন্ধে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালে হাইকোর্ট বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ রোধে কয়েকটি নির্দেশনা দেন।

পরবর্তী সময়ে রিট আবেদনকারীর পক্ষে দায়ের করা সম্পূরক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচরের ইসলামবাগ এলাকায় নদীর তীরে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ওই এলাকায় বর্জ্য ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

এইচআরপিবির পক্ষে আবেদন করেন মোহাম্মদ ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলার বিবাদীরা হলেন নৌপরিবহন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসকসহ ১৩ জন।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ