যৌন হয়রানি নিয়ে বিসিবির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না: আইনজীবী

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

আইন-আদালত

যৌন হয়রানি নিয়ে বিসিবির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কনফিডেনশিয়াল ডকুমেন্ট, কখনোই প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী

2026-11-04T13:57:52+06:00
2026-11-04T13:57:52+06:00
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

যৌন হয়রানি নিয়ে বিসিবির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে না: আইনজীবী
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ১২)

যৌন হয়রানি নিয়ে বিসিবির তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কনফিডেনশিয়াল ডকুমেন্ট, কখনোই প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মাহিন এম রহমান বলেন, আপনাদের গণমাধ্যমে এই প্রশ্নটি এসেছে যে, রিপোর্টটি ১০ মাস হয়ে গেল, কেন এখন পর্যন্ত রিপোর্টটি পাবলিশ করা হলো না? এই বিষয়ে আমি একটু আপনাদেরকে বলতে চাই যে, আমাদের যে প্রিভেনশন অব সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট পলিসি যেটা উচ্চ আদালতেও বলে দিয়েছিল যে এটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হবে, সেটা আমরা ইমপ্লিমেন্ট করেছি এবং এই পশ গাইডলাইনে বলা আছে যে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট রিলেটেড যে তদন্ত হয়, এটার যে তদন্ত ম্যাটেরিয়ালস বা রিপোর্ট, এটা গণমাধ্যম বা পাবলিক ডোমেইনে এটা পাবলিশ করা যাবে না। ইট ইজ টু বি ট্রিটেড অ্যাজ আ কনফিডেনশিয়াল ডকুমেন্ট।

তিনি বলেন, এই কথাটা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে আমরা এই জিনিসটি পাবলিকলি পাবলিশ করিনি, বিকজ আমরা এটা করতে পারি না। এটা পশ গাইডলাইনের নীতিমালায় এটা বারণ করা আছে এবং এটা বারণ করার একটা অন্যতম কারণ হলো এই সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের বিষয়গুলোতে যখন তদন্ত হয় তখন অনেক ইন্টিমেট ইনফরমেশন, পার্সোনাল ইনফরমেশনগুলা এক্সপোজড হয় এবং অনেক উইটনেস এটার মধ্যে ইনভলভ থাকে। তাদের সবার একটি অধিকার আছে, ইনক্লুডিং দ্য ভিক্টিম, নট টু গেট ডিফেইম, নট টু গেট এক্সপোজড এই এসব ইন্টিমেট জিনিসপত্র নিয়ে, খুব সেন্সিটিভ জিনিসপত্র নিয়ে।

মাহিন এম রহমান বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই রিপোর্টটা হয়েছিল, তখন পশ গাইডলাইনটি তখন পর্যন্ত আমাদের এডপ্ট করা হয়নি। এই রিপোর্টে সাজেশনটাও তারা দিয়ে দিয়েছিল যে পশ গাইডলাইনটি আমরা যাতে ইনকর্পোরেট করি। বাট একর্ডিংলি আপনাদেরকে জানিয়ে দিই যে, বিসিবি থেকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে আগস্ট ২০২৬ এ এটা এডপ্ট করে পাবলিশ করে দিয়েছি এবং এটার যে ইন্ডিভিজুয়াল কমপ্লেইন্ট অ্যান্ড রিড্রেস কমিটি সেটাও গঠন করেছি। আমাদের ওয়েবসাইটে গেলে দেখতে পাবেন যে, একটি প্রম্পট আছে যেখানে একটি মহিলা একজন এমপ্লয়িকে ডেডিকেট করা আছে যে তাকে যে-কোনো সময় ২৪ ঘণ্টা কমপ্লেইন্ট নারী ক্রিকেটারসহ নারী এমপ্লয়িরা, শুধু নারী ক্রিকেটার না, নারী এমপ্লয়ি বিসিবিতে যারা কাজ করছেন তাদের সবারই সুযোগ আছে তারা কমপ্লেইন্টটি করবেন।

বিসিবির আইনজীবী বলেন, ন্যাশনাল উইমেন্স ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন জাহানারা উনি একটি কমপ্লেইন করে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের। কার বিরুদ্ধে করে সেটাও আপনারা জানেন যে মঞ্জুরুল আলম নামে একজন ম্যানেজার, উইমেন্স টিমের ম্যানেজার, সে নিজেও ন্যাশনাল টিমের প্লেয়ার ছিল। তো সেটা যখন মিডিয়ার কাছে উনি কমপ্লেইন করে, তখন বিসিবি তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়। সেই তদন্ত কমিটি ওয়াজ হেডেড বাই এ ফরমাল জাস্টিস অব দ্য অনারেবল হাই কোর্ট ডিভিশন অব দ্য অনারেবল সুপ্রিম কোর্ট অব বাংলাদেশ। সেই তদন্ত কমিটি একদম পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে। উভয় পক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করে তারা একটি রিপোর্ট, একটি কম্প্রিহেন্সিভ রিপোর্ট তৈরি করে। সেই রিপোর্টটা আমাদের বিসিবিতে আমাদের প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেয়।

​তিনি বলেন, সেই রিপোর্টটা আমরা যখন এটাকে পর্যালোচনা করি, আমরা দেখি যে এখানে মঞ্জুরুল আলমের বিরুদ্ধে দুটি কাউন্টে আসলে সত্যতা পাওয়া যায় যে সে সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করতো। জাহানারা উনি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে কমপ্লেইন করেছিলেন, সেগুলোর সত্যতা এই তদন্ত কমিটি আদৌ পায়নি। ​তো এই বিষয়ে আমরা যখন এটাকে দেখি, তখন বিসিবি বোর্ড অব ডিরেক্টরস থেকে এটা সিদ্ধান্ত না হয় যে মঞ্জুরুল আলমকে লাইফটাইম ব্যান করে দেওয়া। তো বিসিবি সংশ্লিষ্ট যত কার্য, মানে কোনো রকমের কার্যক্রমে সে আর থাকতে পারবে না।

মঞ্জুরুল ইসলামের রিটের বিষয়ে আইনজীবী বলেন, দুইবার মঞ্জুরুল মিস্টার মঞ্জুরুল ওনার লাইফটাইম ব্যানটাকে চ্যালেঞ্জ করে দুটো পৃথক রিট করেছিল। দুটোরই বিসিবির পক্ষে আমরা অ্যাপিয়ার করেছি এবং আমরা ওইটা অপোজ করেছি। দুইটা অনারেবল ডিভিশন বেঞ্চ এটা খারিজ করে দেয়। সেই যখন হিয়ারিং হয়, তখন আমরা এই রিপোর্টটি কোর্টের কাছে আমরা প্রদর্শন করেছি, কোর্ট এটাকে দেখেছে, পর্যালোচনা করেছে এবং কোর্টের দুটো ডিভিশন বেঞ্চ মঞ্জুরুল আলম সাহেবের রিটকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরেকটা জিনিস আপনাকে জানিয়ে রাখি, একটি কেস পেন্ডিং আছে, একজন ওমেন অ্যাথলেট একটি রিট পিটিশন করেছে, যেখানে বিসিবিকেও পার্টি করেছে। সেটাও সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের কী কী ইমপ্লিমেন্ট করা এটার বিষয়ে, সেটার রুল পেন্ডিং আছে। ওখানেও আমরা রিপোর্ট থেকে শুরু করে যা যা করেছি, এগুলো অনারেবল কোর্টকে আমরা অবহিত করব।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ