প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম (ভিজিট : ১৮)

সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-৩১) উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি।
সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরার পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে থাকবে।
ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে জলবায়ু ইস্যুর পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে কপ-৩১। ১১ ও ১২ নভেম্বর সম্মেলনের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দুই দিনের অধিবেশনে যোগ দেবেন। তিনি আগামী ১০ নভেম্বর তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন। সফর শেষে ১২ নভেম্বর দেশে ফিরবেন।
কপ-৩১ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যাতে নতুন করে ঋণের বোঝায় না পড়ে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সায়মুম পারভেজ জানান, সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিলের অর্থ বাড়ানোর দাবি জানাবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে এ তহবিল থেকে অর্থ পায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ দাবিগুলো বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে তুলে ধরা হবে।
বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে। এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে কপ-৩১ সম্মেলনে লস অ্যান্ড ড্যামেজ খাত থেকে অর্থসহায়তার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন এবং বিশ্বনেতাদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশের জন্য এ সম্মেলন কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আয়োজন নয়; বরং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের স্বার্থ, অর্থায়নের দাবি এবং উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ।
তিনি আরও বলেন, সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হবে।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে এরদোয়ান বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ওই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আনতালিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে বৈঠক হয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কপ-৩১-এ অংশগ্রহণ, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ২০২৭ সালের শুরুতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলনে তুরস্ককে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এ ছাড়া গত ৬ জুন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এসব সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।