সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে সচল বেশিরভাগ কারখানা, পরিস্থিতি শান্ত

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

রাজধানী

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় আজও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

2026-11-05T17:10:42+06:00
2026-11-05T17:10:42+06:00
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে সচল বেশিরভাগ কারখানা, পরিস্থিতি শান্ত
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:১০ পিএম   (ভিজিট : ০)
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভারের আশুলিয়ায় আজও বিক্ষোভ করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের জামগড়া এলাকায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ তাদের সরানোর চেষ্টা করলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ছুড়ে শিল্প পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভেঙে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে আশপাশের কারখানাগুলোতে শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়েই কাজে যোগ দেন। তবে কয়েকটি কারখানায় তারা কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করেন। পরে কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর সকাল সাড়ে আটটার দিকে জামগড়ায় সড়ক অবরোধ শুরু হয়।

এদিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকায় ফেব্রিকা নিট কম্পোজিটের সামনে ৪০০ থেকে ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা কারখানাটির দুটি ফটক ভেঙে ফেলেন। এরপর কারখানাটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়। আশপাশের কয়েকটি কারখানাও ছুটি দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রায় ৫০০ লোক আইসা দুইটা গেইট ভাঙছে। কারখানা ছুটি দিলে শ্রমিকরা বের হওয়ার সময় তারা চইলা গেছে। আশপাশের কারখানাও ছুটি দিয়া দিছে।’

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে আছে। তার আওতাধীন ১ হাজার ৮৬৩টি কারখানার মধ্যে অস্থিতিশীলতার শঙ্কায় ৭০টি কারখানা সাময়িকভাবে ছুটি ঘোষণা করেছে। বাকি কারখানায় উৎপাদন চলছে।

জামগড়ার ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, সকালে কয়েকটি কারখানায় ছুটির পর কিছু দুষ্কৃতকারী ঢিল ও পাটকেল ছুড়ছিল। তাদের কয়েকজনকে আটকের পর তারা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি সামলাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়া হয়। তিনি আরও জানান, কিছুক্ষণ আগে প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক জিরাবো থেকে এনভয় কারখানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল করেছেন। গাজীপুরে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।

সকাল থেকেই আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন কারখানার সামনে ও আশপাশে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও অবস্থান করতে দেখা যায়।

বিজিবির ঢাকা ব্যাটালিয়নের (৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান খান বলেন, আজকের পরিস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক ভালো ও স্বাভাবিক। এখন পর্যন্ত কোথাও অরাজকতা বা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাভার ও আশুলিয়ায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন আছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকায় পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে। আশুলিয়ার গুটিকয়েক কারখানা ছাড়া অন্য সব জায়গায় নিরাপদে কাজকর্ম চলছে। ডিইপিজেডের সব কারখানাও খোলা আছে এবং উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। যেসব কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ঢাকা জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ