প্রকাশ: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ এএম আপডেট: ০৪.১১.২০২৬ ১১:৪২ এএম (ভিজিট : ১৮)

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। বিপরীতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল ও ভোট গণনার চিত্র অনুযায়ী, দলটি ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে। আরও দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে তারা। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন ৫১টি আসন। খবর আল জাজিরার।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, কানসাস, ওহাইও ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে দলটির সাফল্য সিনেটের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দিয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা ৩৯টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ছয়টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। একটি আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসছে।
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয়
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়ে সিনেটের আসনটি দখলে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ডারলিন গ্রাহাম প্রয়াত দীর্ঘদিনের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। তাঁর মৃত্যুর পর ভাইয়ের শূন্য আসনে ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন।
প্রতিবেশী নর্থ ক্যারোলাইনাতেও সিনেটের আসন পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটরা। অঙ্গরাজ্যটির সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন।
রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও বড় জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ও অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। টেক্সাসে গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি।
এ ছাড়া ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে হারিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করেছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। দুই বছর আগে এই আসনটি ছিল বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দখলে। কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও মেগাচার্চের যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন।
আইওয়াতেও অপ্রত্যাশিত জয়ের মধ্য দিয়ে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। একের পর এক রিপাবলিকান-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যে দলটির এই সাফল্য এবারের নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে।
বদলে যাচ্ছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণ
বিদায়ী ১১৯তম কংগ্রেসের ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ছিল ৪৫টি। এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোটবদ্ধ ছিলেন। এবারের নির্বাচনে আসন হারানোর মধ্য দিয়ে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে রিপাবলিকানরা।
২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিল রিপাবলিকান পার্টি। মার্কিন রাজনীতিতে এই অবস্থাকে ‘ট্রাইফেক্টা’ বলা হয়। সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিশ্চিত হওয়ায় সেই একক দলীয় নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় কঠিন। কারণ, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর। আবার প্রতি দুই বছর পর সিনেটের মোট আসনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের মোট ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি নিয়মিত নির্বাচন এবং ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রশাসনে যোগ দেওয়ায় অঙ্গরাজ্য দুটিতে সিনেটের আসন শূন্য হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে অন্তত সাতটি সিনেট আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস ছিল। অঙ্গরাজ্যগুলো হলো আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, ওহাইও, টেক্সাস ও মিশিগান। এর মধ্যে টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগত শক্ত ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয় নির্বাচনের ফলাফলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। অন্যদিকে কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ায় আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তে ডেমোক্র্যাটদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই