প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ৫:৩২ পিএম (ভিজিট : ৪)

সময়ের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে জাতীয় পরিকল্পনাকে প্রতিনিয়ত আরও সমৃদ্ধ ও কার্যকর করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছিল। সরকার বর্তমানে সেই ইশতেহার বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের ‘Demographic Change in South Asia: From Tailwinds to Headwinds for Development’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্য সামনে রেখে পাঁচ সদস্যের পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকে প্রধান করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এ কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ, সন্তানদের সুশিক্ষা নিশ্চিত করা এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে জাতীয় জিডিপির প্রবৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের পরিবারগুলোর অতীতে কোনো ‘ফ্যামিলি ট্রি’ সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের সুনির্দিষ্ট তথ্যভিত্তিক ফ্যামিলি ট্রি তৈরি করা হবে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানান, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার বিভিন্ন খাতে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপুষ্টির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীদের এক হাজার দিন পর্যন্ত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে আয়বর্ধক প্রশিক্ষণের পর সিড মানি ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে।
ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার শিক্ষা খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নেও অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কল্যাণের পাশাপাশি তাঁদের পরিচর্যা ও সার্বিক সহায়তায় অভিভাবকদেরও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে সরকার ‘জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা কৌশল’ গ্রহণ করেছে। এ কৌশলে নবজাতকের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে সরকার কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভাতার পরিমাণ, সহায়তার মান ও সুযোগ-সুবিধার গভীরতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে বৈষম্য কমিয়ে টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০৩৪ সালের পর দক্ষিণ এশিয়ায় তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে শুরু করবে। অন্যদিকে, ধনী দেশগুলোর মতো অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আগেই ২০৪৯ সালের মধ্যে অঞ্চলটি দ্রুত বয়োবৃদ্ধ সমাজে পরিণত হবে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রবীণদের সুচিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়া রিজিওনাল প্র্যাকটিস ডিরেক্টর (পিপল ভার্টিক্যাল) সেম মেটে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই