ডিসেম্বরের আগেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে

জাতীয়

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ

2026-11-03T16:36:48+06:00
2026-11-03T16:37:44+06:00
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

ডিসেম্বরের আগেই রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হতে পারে
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ পিএম  আপডেট: ০৩.১১.২০২৬ ৪:৩৭ পিএম  (ভিজিট : ১)

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে 'বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬' উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এখন সি-স্টেজে রয়েছে। এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে এক ধাপ থেকে অন্য ধাপে যেতে হচ্ছে। আজ পর্যন্ত কেন্দ্রটি ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতা অর্জন করেছে। 

এই সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছালে উৎপাদিত বাষ্প দিয়ে টারবাইন ঘোরানো হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনের মাধ্যমে জেনারেটর চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে আরও বেশ কিছু পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী যন্ত্রপাতি খুলে আবার পরীক্ষা ও মেরামত করা হবে। একবার নয়, প্রয়োজনে দুই, তিন বা চারবারও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে না।

মন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে চান না তিনি। কারণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে অনেক সূক্ষ্ম কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এসব পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন হয়।

মন্ত্রী বলেন, একটি ভিভিআর ভালভ নিয়ে প্রায় দুই মাস কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়েছে। রাশিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিজ্ঞানী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রকল্প পরিচালকসহ মাঠপর্যায়ে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান বিশেষজ্ঞরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে প্রায় ৪৯ জন রাশিয়ান বিজ্ঞানী এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, প্রথমে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে উৎপাদন ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। তবে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়টি মাঠপর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের কাজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।


ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই









  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ