প্রকাশ: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম (ভিজিট : ১২)

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টিমান উন্নয়ন এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা।
সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার নেতৃত্বে আসা ডব্লিউএফপির একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পুষ্টি উন্নয়ন, খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের সঙ্গে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এসময় খাদ্য খাতে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও ফর্টিফায়েড চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে এ কর্মসূচির প্রকৃত পুষ্টিগত প্রভাব ও কার্যকারিতা সম্পর্কে নিজস্ব গবেষণালব্ধ তথ্য থাকা জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি প্রভাব মূল্যায়ন গবেষণা পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৪ লাখ থেকে সাড়ে ৪ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এ গবেষণায় ডব্লিউএফপির আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা আশা করেন তিনি।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ফর্টিফায়েড চালের কার্যকারিতা সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে এ কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। বর্তমানে প্রায় ৩০০ উপজেলায় এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। কর্মসূচিটি আরও সম্প্রসারণের আগে এর পুষ্টিগত সুফল সম্পর্কে শক্তিশালী প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
এছাড়া বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী দেশের কৌশলগত খাদ্যশস্যের মজুত আরও কার্যকর ও দুর্যোগ-সহনশীল করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় খাদ্য মজুত ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় কৌশলগত খাদ্য মজুত ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বৈঠকে খাদ্যসচিব আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খান,ডব্লিউএফপির বাংলাদেশের সিনিয়র পার্টনারশিপ অ্যাডভাইজার মো. মহসিন চৌধুরী, হেড অব প্রোগ্রাম জেসি উড উপস্থিত ছিলেন।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই