প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ পিএম (ভিজিট : ১২)

শুধু সনদ অর্জনের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, সেভ দ্য চিলড্রেনের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে সরকার তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করতে চায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রম অ্যাসপিরেশন টু অ্যাচিভমেন্ট: ন্যাশনাল সামিট অন ইয়ং উইমেনস ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড লিডারশিপ’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
‘প্রমোশন অব উইমেন্স এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং (পাওয়ার)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য ও তরুণীরা অংশ নেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানো, তাঁদের নেতৃত্বের বিকাশ ঘটানো এবং সক্ষমতা ও সহনশীলতা জোরদার করা।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অগ্রযাত্রায়, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগ সরকারকে অনুপ্রাণিত করবে। জনগণের প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত তরুণীদের অভিনন্দন এবং আয়োজক সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান প্রধান অতিথি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ‘আর্ন’ প্রকল্পের পরিচালক কাজী মোখলেছুর রহমান এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিক্ষা প্রধান দীপা শঙ্কর।
কাজী মোখলেছুর রহমান বলেন, পাওয়ার প্রকল্প থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘আর্ন’ প্রকল্পসহ সরকারের বিভিন্ন যুব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কাজে লাগানো যেতে পারে। তরুণীদের ক্ষমতায়নে সেভ দ্য চিলড্রেনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি প্রকল্পটির সাফল্য কামনা করেন।
দীপা শঙ্কর তরুণদের সামগ্রিক উন্নয়নে শিক্ষা ও দক্ষতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমকে সাধারণ বিকল্প হিসেবে না দেখে মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
সম্মানিত অতিথি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান কিশোরী ও তরুণীদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর মাধ্যমে তরুণীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
দিনব্যাপী সম্মেলনে তরুণীদের অনুপ্রেরণামূলক জীবনের গল্প তুলে ধরার পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী সংলাপ ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় তরুণ নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং তরুণদের দক্ষতা ও নিয়োগকর্তাদের চাহিদার মধ্যকার ব্যবধান কমানোর উপায় নিয়ে কথা হয়। কৌশলগত আলোচনা, প্রদর্শনী ও নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তরুণীদের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
২৬ হাজারের বেশি তরুণীকে নিয়ে কাজ করছে পাওয়ার
সেভ দ্য চিলড্রেনের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত পাওয়ার প্রকল্প কিশোরগঞ্জ জেলার ১৩ থেকে ২৫ বছর বয়সী ২৬ হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে। গার্লস এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস পার্টনারশিপ (জিইএসপি) তহবিলের আওতায় প্রকল্পটি বিশেষ করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়, এমন তরুণীদের (নিট) দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও জীবনদক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের পথে সামাজিক বাধা দূর করা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) শিক্ষা, পরিবেশবান্ধব দক্ষতা এবং যুব নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এবং ইউনিসেফের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেভ দ্য চিলড্রেন। অংশীদার হিসেবে রয়েছে ইউসেপ বাংলাদেশ, দ্য আর্থ এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ২০২৪ সালের মার্চে শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।