মো. শফিকুল ইসলাম :
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৬ পিএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৬:০৩ পিএম (ভিজিট : ৩)

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের বাড়তি প্রতিযোগিতার মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় বসছে নবম ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম। আগামী রোববার (২৫ অক্টোবর) শুরু হয়ে তিন দিনের এই সম্মেলন চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এতে অংশ নেবেন।
ফোরামে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি বিশেষ অধিবেশন রাখা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর দোহা সময় সকাল ১০টা ৩০ থেকে ১০টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত 'ইনভেস্ট ইন বাংলাদেশ: দ্য বিলিয়ন-ডলার অপরচুনিটি হাইডিং ইন প্লেইন সাইট' শীর্ষক এই অধিবেশন আঙ্কটাডের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত।
এর আগের দিন, ২৫ অক্টোবর, জলবায়ু অগ্রাধিকার থেকে বিনিয়োগ ও জ্বালানি রূপান্তরের প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া নিয়ে একটি বৈশ্বিক বিনিয়োগ উন্নয়ন সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের। ফোরামের আনুষ্ঠানিক বক্তাতালিকায় তাঁর নাম আছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন।
বিনিয়োগের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ
জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত এ ফোরামের এবারের প্রতিপাদ্য 'ইনভেস্টিং ইন দ্য ফিউচার' (ভবিষ্যতে বিনিয়োগ)। কাতার সরকারের অংশীদারত্বে আয়োজিত সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, অবকাঠামো, টেকসই অর্থায়ন, পর্যটন ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
আঙ্কটাডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টানা দুই বছর পতনের পর প্রবৃদ্ধি ফিরলেও এর সুফল সব অর্থনীতিতে সমানভাবে পৌঁছায়নি। বৈশ্বিক এফডিআইয়ের ৮০ শতাংশের বেশি গেছে শীর্ষ ২০টি বিনিয়োগ-গ্রহীতা অর্থনীতিতে। উন্নত অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বেড়েছে ১১ শতাংশ, আর উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে মাত্র ২ শতাংশ।
এ পরিস্থিতিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বড় চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আকর্ষণ। দোহা ফোরামে এসব দেশের বিনিয়োগ-সুযোগ তুলে ধরা, সরকারি ও বেসরকারি খাতের যোগাযোগ বাড়ানো এবং নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এআই, জ্বালানি ও অবকাঠামোতে গুরুত্ব
প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারে ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ডিজিটাল অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের প্রয়োজনও বাড়ছে। এসব খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ফোরামের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।
এ ছাড়া উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপের অর্থায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক শিল্পে বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হবে।
বাংলাদেশের জন্য কী সুযোগ
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও এআইভিত্তিক সেবা, উৎপাদনশিল্প, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো ও জ্বালানি সরবরাহ উন্নত করা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি নীতির ধারাবাহিকতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সম্ভাব্য মুনাফা বিবেচনায় নেন।
দোহা ফোরামে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সম্মেলনে অংশগ্রহণ বা সম্ভাবনা উপস্থাপনেই বিনিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই। বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রকল্প প্রস্তাব এবং কার্যকর উদ্যোগ কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, তার ওপর।
বিনিয়োগ-গন্তব্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতা যখন বাড়ছে, তখন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ হলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি সেই আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়া।