প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৬ ৫:৩৭ পিএম (ভিজিট : ৬)

আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ লক্ষ্য অর্জনে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর ব্যবস্থার সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে ফরেন ইনভেস্টর্স চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি : ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এ আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের উদ্যোগের প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজার থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করা এবং দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
কর ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাধ্যমে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে।
জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থা আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী জানান, বড় জাহাজ ভেড়ানোর উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহের সক্ষমতা বাড়বে। এতে জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা মোকাবেলা এবং দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যাবে।
সভায় বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সংস্কারের বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানিনির্ভরতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করাও প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।
অর্থমন্ত্রীর প্রত্যাশা, সরকারের পরিকল্পনা ও সংস্কার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা, সংস্কারের বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর।