প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ এএম (ভিজিট : ১২)

ভারতীয় টেলিভিশন অভিনেত্রী মাহি ভিজ। একসময় জয় ভানুশালীর সঙ্গে সুখী দাম্পত্যের জন্য পরিচিত এই অভিনেত্রীর সংসার ভেঙেছে। বিচ্ছেদের পর মেয়েকে একা হাতে বড় করার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে প্রাক্তন স্বামী আর্থিক সহায়তা দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করেননি মাহি।
কেন খোরপোশ নিতে চান না, সেই কারণই এবার আবেগঘন কথোপকথনে জানালেন অভিনেত্রী। ‘বিগ বস ২০’-এর ঘরে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মাহি জানান, বিচ্ছেদের পর জয় তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করতে চেয়েছিলেন।
এমনকি আদালতের বিচারকও বারবার তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। সম্প্রতি সহ-প্রতিযোগী আরিশফা খানের সঙ্গে বিবাদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন মাহি। সেই সময় কথোপকথনের একপর্যায়ে মাতৃত্ব, সন্তানদের দায়িত্ব এবং বিচ্ছেদের পর নিজের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেন তিনি।
মাহি জানান, তার জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে মেয়ে তারা। মেয়েকে ঘিরেই আবর্তিত হয় তার দৈনন্দিন জীবন। একা হাতে সন্তানকে বড় করে তোলার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিদিন কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা তিনিই সবচেয়ে ভালো জানেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জয় তাকে বারবার নিজের মতো করে জীবন কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রয়োজনে তারার দেখভালের দায়িত্বও নিতে চেয়েছেন, যাতে মাহি নিজের কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগ দিতে পারেন। তবে মেয়েকে ছেড়ে নিজের মতো করে জীবন কাটানোর বিষয়টি তার কাছে সহজ নয়। মেয়েকে ঘিরেই তার জীবনের অধিকাংশ পরিকল্পনা।
খোরপোশ না নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহি বলেন, তিনি নিজের যোগ্যতায় স্বাবলম্বী হতে চান। প্রাক্তন স্বামীর উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল থাকতে চান না তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে জয় তাকে সাহায্য করতে চান না। বরং প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন জয়। কিন্তু সেই অর্থ গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন না মাহি।
এর পেছনের কারণ হিসেবে অভিনেত্রী জানান, ওই অর্থ উপার্জন করতে জয়কে দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করতে হয়েছে। তাই তার উপার্জনের ওপর নির্ভর না করে নিজের সামর্থ্যে জীবন গড়ে তুলতে চান তিনি।
একসময় টেলিভিশন দুনিয়ার জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ছিলেন জয় ভানুশালী ও মাহি ভিজ। ২০১০ সালে বিয়ে করেন তারা। এই দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে, যাদের মধ্যে দুজন দত্তক নেওয়া। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের খবর প্রকাশ্যে আসে ২০২৫ সালের অক্টোবরে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই