প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম (ভিজিট : ৯)

সংগৃহীত ছবি
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ক্ষমতাসীন দল বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের নিজেদের সংশোধন করতে হবে। ইতিমধ্যে ঢাকায় একজন নারী সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হাসপাতাল দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।
ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছেন। পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণকারী একদল মাদকসেবীকে দমন করতে গিয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি, এটা মানায় না। সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী, তাঁর সঙ্গে দেহরক্ষী আছেন। পুলিশ বাহিনী দুর্বল হলে দলীয় কর্মীবাহিনী যেতে পারে। কিন্তু একজন নেতা ও মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তির হাতে অস্ত্র, তা আইনি হোক বা বেআইনি, শোভা পায় না।’
তিনি বলেন, এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ইশরাকের উদ্দেশ্য ছিল দুর্বৃত্ত দমন করা। এ জন্য সাধারণ মানুষ ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই তাঁকে মূল্যায়ন করবে।
বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘দুটি উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরা হলো। অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজেদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে আপসহীন। এ কারণে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর জনগণ একটি ভালো ও নির্বাচিত সরকার পেয়েছে। আমরা আশা করব, এই সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করবে। আপনারা এ ধরনের সরকার ও প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।’
সংসদে নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, আমি সংসদে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। বিরোধী দলের সদস্যরাও আজ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। আমি সবাইকে কথা বলার সমান সুযোগ দিয়েছি। সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা যখন সরকারের সমালোচনা করেন, তখন কারও কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা কখনোই করিনি। কারণ, গণতন্ত্রে সরকারি দল ও বিরোধী দল থাকবে। সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।