প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম (ভিজিট : ০)

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ডের তথ্যের বিষয়ে কাছে জানতে চেয়ে আবারও একটি কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ। সৌদি আরবের পাঠানো বন্দি তালিকায় নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের নাম থাকলেও তাদের কী সাজা দেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ ছিল না। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়ার পাশাপাশি দুই বাংলাদেশির মামলার বিস্তারিত বিবরণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার তথ্য চেয়ে এই কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টি তোলেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি সৌদি কর্মকর্তা। পরে দুই বাংলাদেশির মামলার বিবরণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত চেয়ে একই দিন সৌদি আরবকে আবার কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর জানায়। পরদিন ১৫ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একটি কূটনৈতিক পত্র দিয়েছিল। এরপর গত ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতের কাছে এই কূটনৈতিক পত্র পুনরায় দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কনসাল জেনারেল সৌদি কর্মকর্তার কাছে নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মামলার বিবরণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিস্তারিত চেয়ে ফের কূটনৈতিক পত্র দিয়েছে।
কূটনৈতিক পত্রে যত দ্রুত সম্ভব দণ্ডিত দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ করা হয়।
সৌদির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তারের পর যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রথমে নিম্ন আদালত দুই আসামির দণ্ড দেন। পরে আপিল আদালতে ১৩ জন বিচারককে নিয়ে গঠিত প্যানেল তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। আদালতের রায় অনুসরণ করে নারী ও পুরুষের জন্য নির্ধারিত পৃথক সেলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা রায়ের কপি হাতে পেলে বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে জানাতে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে পারব।
’ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নথিপত্র পাওয়ার পর ঢাকা বিষয়টি পর্যালোচনা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।
এখন জেদ্দার উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। তিনি বলেন, ‘এই দুই ব্যক্তির নাম ওই তালিকায় রয়েছে কি না, আমরা তা যাচাই করছি।’