প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৭ পিএম (ভিজিট : ১০)

সংগৃহীত ছবি
রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা, আত্মবিশ্বাস ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘অন্যদের কথা বাদ দিন, নিজের সন্তানের জন্য অন্তত একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই সৎ চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা অবশ্যই পারব।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউই চাইবেন না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। সন্তান শুধু নিজের ঘরের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তারা স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে চলাফেরা করে। ফলে শুধু নির্দিষ্ট এলাকা নয়, পুরো শহর পরিচ্ছন্ন রাখা নাগরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
ঢাকার দীর্ঘদিনের আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বিশাল সমস্যা একদিন বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই যদি নিজেদের জায়গা থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করেন, তাহলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।’
লন্ডনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ষাট ও সত্তরের দশকে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের অনেক স্থানও অপরিচ্ছন্ন ছিল। তবে ধারাবাহিক প্রশাসনিক উদ্যোগ ও নাগরিকদের সচেতনতার কারণে শহরটি আজ বিশ্বের অন্যতম পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা আমার সমালোচনা করতেই পারেন, সেটি আপনাদের অধিকার। কিন্তু দিনের শেষে নিজেদের ভেতরেও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। ভাবতে হবে, আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে ও শতভাগ চেষ্টা দিয়ে পালন করেছি।’
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার এমন এক শীর্ষ ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জানিয়েছেন, ঢাকার সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। এ ধারা বজায় রাখতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।
মতবিনিময়সভার আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের ‘জরুরি পরিচালন কেন্দ্র’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়া, ভূমিকম্পের হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস ও বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের আধুনিক ওয়েবসাইট এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যালোচনা করেন।
এ ছাড়া ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।