প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৬)

সংগৃহীত ছবি
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন, তাঁরা সমাজেরই সম্পদ। তাঁদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব। এ জন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন এবং তাঁদের চলাচল ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-১৪ এলাকায় জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আয়োজিত বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুসহ সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যেই মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁদের প্রতি সম্মান দেখানো এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমাজ এখনো অনেক পিছিয়ে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এ জন্য সমাজের সর্বস্তরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচল ও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও বড় ভবনে র্যাম্পের ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিপণিবিতান নির্মাণের সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। গণপরিবহনে তাঁদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চালক ও সহকারীদেরও তাঁদের প্রতি সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে।
বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’ যথার্থ উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে দৃশ্যমান ও টেকসই করতে সরকার কাজ করছে।
সরকারের অগ্রগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। এখনো দৃশ্যমান অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগোতে হবে। সময় ও সহযোগিতা পেলে দেশের সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রচার ও সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে গণমাধ্যম মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে। সমাজের বিভিন্ন সংকট ও বাস্তবতা নিয়ে মানুষ অনেক সময় প্রকাশ্যে আলোচনা করতে দ্বিধা করে। এসব বিষয় ইতিবাচকভাবে তুলে ধরে জনসচেতনতা বাড়াতে মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে ১১০ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেধাবী শিশুর মধ্যে বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করেন মন্ত্রী। পরে শিশুদের অংশগ্রহণে দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণসচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান দুলাল। বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহসভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমদ কবীর।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশু, তাঁদের অভিভাবক, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এবং সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রীর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণ থেকে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি মিরপুর-১৪ গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।