প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, রাতে আলোকসজ্জায় সেতুতে ফুটে উঠবে শাপলা ফুলের আকৃতি, আর সেই সেতু ধরেই সড়কপথে খুলে যাবে পায়রা বন্দরের দুয়ার। পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ সেই সেতুর ডেকের শেষ ধাপের কংক্রিট ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেতুটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা করছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দরের প্রথম টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। চালু হলে প্রথম টার্মিনালে খালাস করা পণ্য সরাসরি সড়কপথে ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পাঠানো যাবে। এতে পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতি আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রাবনাবাদ নদীর তীরে চরিপাড়ায় অবস্থিত এই টার্মিনালে সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতও সহজ হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরের আওতাধীন শিল্পাঞ্চলে কলকারখানা স্থাপনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বন্দরের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এসব কারখানায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতুটি চালু হলে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের পরিবহন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতুর ডেকের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিন আগে, গত ৭ অক্টোবর, প্রথম টার্মিনালে আরেকটি অগ্রগতি হয়েছে। ওই দিন চীনের পতাকা বহনকারী পণ্যবাহী জাহাজ ফান ঝৌ-৬ (Fan Zhou-6) টার্মিনালে নোঙর করে। জাহাজটিতে পণ্য ওঠানো-নামানোর পাঁচটি আধুনিক সরঞ্জাম আনা হয়। দুই বছর পর এই প্রথম টার্মিনালে বড় ধরনের সরঞ্জাম পৌঁছাল।
এক্সট্রাডোজড প্রযুক্তিতে নির্মিত সেতুটির টাওয়ারের উচ্চতা ৫৮ দশমিক ৫ মিটার, মূল ডেকের প্রস্থ ২৩ দশমিক ২ মিটার এবং সংযোগ ডেকের প্রস্থ ২১ দশমিক ২ মিটার। দুই দিকে দুটি করে মোট চারটি লেন রয়েছে। নদীতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেতুটির নকশা করা হয়েছে মাত্র দুটি প্রধান পিলারের ওপর। এতে জাহাজ ও লঞ্চ চলাচলের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম পাইল স্থাপনের মাধ্যমে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন (সিসিইসিসি) ও চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) যৌথভাবে এটি নির্মাণ করছে। কাজ তদারকি করছে একটি দক্ষিণ কোরীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।
নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় সেতুটি এখন স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই অনেকে নির্মাণস্থলের পাশের ছয় লেনের সড়কে জড়ো হয়ে সেতুর অগ্রগতি দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সেতুটি চালু হলে বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণে গতি আসবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
ডেল্টা টাইমস/সিআর/এমই