প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৯ পিএম (ভিজিট : ১১)

বাংলাদেশ রেলওয়েকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। এলএইচবি (লিংকে-হফম্যান-বুশ) ধরনের এসব কোচ ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে।
রাইটস মঙ্গলবার জানায়, গত ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার। পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডের জন্য পৃথক কক্ষ ও মালপত্র রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, সাত ধরনের কোচ তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়েকে সরবরাহ করা হবে। বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা ও যাত্রীদের ভ্রমণ আরামের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কোচগুলোর নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব কোচে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে, যা এ ধরনের এলএইচবি কোচে প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হয়েছে।
নতুন কোচগুলোতে বিশেষভাবে নকশা করা হেলানো যায় এমন আসন রাখা হয়েছে। আসনগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এতে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচগুলোতে পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, জরুরি সংকেত দেওয়ার সুবিধা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য পৃথক কক্ষ এবং প্রার্থনার জন্য একটি কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের রেল পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় কোচগুলোর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে ছাদ আরও মজবুত করা হয়েছে। ব্যস্ত সময়ে যাত্রীরা কোচের ছাদে উঠলে বাড়তি ওজন বহনের বিষয়টিও নকশায় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
নতুন কোচগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়ানোর উপযোগী কাঠামোগত নকশা। কোচগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তার নির্ধারিত মান পূরণে কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে সংঘর্ষের ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা বাড়বে এবং যাত্রীদের সুরক্ষায় সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী কোচগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হলেও বাংলাদেশে সরবরাহের জন্য তৈরি কোচগুলো ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। ওই সময় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে আরও ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ কেনার ক্রয়াদেশ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রাইটস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ২৮০টির বেশি রেল ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং একাধিক ডিজেলচালিত ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে। ভারতের নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।