প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ পিএম (ভিজিট : ০)

সুদানের উত্তরাঞ্চলে একটি স্বর্ণখনিতে মিশরের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। মিশর সীমান্তের কাছে ওই হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় খার্তুমভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠনটি। তাদের দাবি, মিশরের যুদ্ধবিমান সুদানের উত্তরাঞ্চলের ওয়াদি এলাকায় বেসামরিক স্বর্ণখনিশ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার বিরোধপূর্ণ সীমান্তবর্তী পার্বত্য এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
চলতি বছর জাবাল আল-উকাইদাতের পার্বত্য স্বর্ণখনি এলাকায় এটি দ্বিতীয় হামলার ঘটনা। এর আগে গত জুনে একই এলাকায় হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলার জন্যও মিশরকে দায়ী করা হয়েছিল।
সে সময় মিশরের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধভাবে স্বর্ণ উত্তোলন বন্ধ করতে তারা বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে।
সুদান ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিয়ে বিরোধ চলছে। সম্পদসমৃদ্ধ হালাইব ত্রিভুজ অঞ্চলটি নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে দুই দেশই।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশ করা কিছু ছবিতে হামলার ভয়াবহতা উঠে এসেছে। ছবিগুলোতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মরদেহ এবং কাফনে মোড়ানো মরদেহ দেখা যায়। তবে ছবিগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হামলার পর ওই এলাকার শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় শ্রমিকেরা জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইমার্জেন্সি লইয়ার্সের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী স্বর্ণ ও খনিজসম্পদসমৃদ্ধ এলাকায় বারবার হামলার ঘটনা সুদানের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বিষয়ে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের আগ্রহের প্রতিফলন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মিশরের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। দীর্ঘদিনের এ যুদ্ধে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ ঝুঁকি নিয়ে স্বর্ণখনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সুদানের স্বর্ণখনি থেকে পাওয়া অর্থও সংঘাত দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী ও আরএসএফ—উভয় পক্ষই স্বর্ণখনি থেকে পাওয়া আয় দিয়ে যুদ্ধের ব্যয় মেটাচ্ছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা শ্রমিকদের পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।