প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ পিএম (ভিজিট : ০)

সংগৃহীত ছবি
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পাঞ্চলে কঠোর নজরদারি ও রিয়েল-টাইম মনিটরিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তাঁরা।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোসা. মাহমুদা পারভিন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বায়ুদূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। অন্যথায় দূষণের কারণে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি শিল্প খাতে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। এ জন্য সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার, সোলার প্যানেল পরিষ্কারে রোবোটিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফ নাফে আস-সাবের বলেন, বায়ুদূষণ মোকাবিলায় প্রথমে সমস্যার প্রকৃতি ও উৎস চিহ্নিত করতে হবে। দেশীয় প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গেও সমন্বয় ঘটাতে হবে। দূষণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হলে এর কারণ শনাক্ত করা এবং কার্যকর সমাধান বেছে নেওয়া সহজ হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারেও বাধা সৃষ্টি করছে। ধুলাদূষণের কারণে সোলার প্যানেলের কার্যকারিতা কমে যায়, ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা থাকলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন বলেন, শুধু জীবনযাত্রার মান নয়, জীবনের গুণগত মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে। গাছপালা, নদী, পানি ও নির্মল প্রকৃতি মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বায়ুদূষণ কমাতে আচরণগত পরিবর্তনের পাশাপাশি এমন নগর পরিকল্পনা প্রয়োজন, যাতে কর্মস্থল ও আবাসস্থলের দূরত্ব কমে এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায়।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের উপপরিচালক রাউফা খানম বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিনিয়োগ ও সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্জ্য পোড়ানোসহ বিভিন্ন উৎসের বায়ুদূষণ এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, শুধু সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করলেই হবে না, এর যথাযথ ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. মোসা. মাহমুদা পারভিন বলেন, বায়ুদূষণ এখন আর শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের টিকে থাকার জন্যও বড় হুমকি। টেকসই উন্নয়ন ও সবুজ শিল্পায়নের মাধ্যমে এ সংকট মোকাবিলা করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।