প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ পিএম (ভিজিট : ০)

ফাইল ছবি
ব্যাংক খাতকে 'আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি' থেকে ঘুরে দাঁড় করাতে আগামী ৫ থেকে ৮ বছর জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউআইইউতে এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংকের আয়োজনে বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর আর্থিক খাতে অর্থপাচার ও অনিয়মের ব্যাপকতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল। এই অর্থ দিয়ে সরকার দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দিতে পারত, অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার তারল্য সংকটের জন্য দায়ীদের কঠোর সমালোচনা করে গভর্নর বলেন, এ অপরাধের ভয়াবহতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়। তাঁর ভাষায়, লুটেরা গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। এটি সাধারণ চুরি নয়, এটি ছিল লুটপাট।
গভর্নর জানান, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে ইতোমধ্যে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা এবং ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করা এবং ক্যাম্পাসে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইউআইইউতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে সহজে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন।
ওয়ান ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা আরও সহজ ও সহজলভ্য হলেই ডিজিটাল রূপান্তর অর্থবহ হয়ে ওঠে। ইউআইইউতে বাংলা কিউআর চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা সরাসরি আন্তঃপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। একই সঙ্গে ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাবনা সম্পর্কেও তাঁরা আরও সচেতন হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিশন বাস্তবায়নে এবং ডিজিটাল পেমেন্টের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ইউআইইউর সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত।
এর আগে গভর্নর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক উদ্ভাবন এবং ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের 'বাংলা কিউআর' উদ্যোগ এবং দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নে এর ভূমিকা তুলে ধরে একটি উপস্থাপনাও দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আউটলেটে এ উদ্যোগের আওতায় ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থার সূচনাও করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ওয়ান ব্যাংক ও ইউআইইউর এ অংশীদারত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।