মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখন নাগালে, চালু হলো ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড

ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:

জাতীয়

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু করেছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট

2026-10-09T14:56:22+06:00
2026-10-09T15:07:21+06:00
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখন নাগালে, চালু হলো ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড
ডেল্টা টাইমস ডেস্ক:
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম  আপডেট: ০৯.১০.২০২৬ ৩:০৭ পিএম  (ভিজিট : ৩)
সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’ চালু করেছে ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) উদ্যোগ মনোকথা। মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত নানা সমস্যা মোকাবিলায় নিয়মিত যত্ন এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬ উপলক্ষে  শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্ডটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ডিআরডিএফের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতির (বিপিএ) সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শামসুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু। প্রতিদিনের জীবনে অনেক মানুষ মানসিক চাপ, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও আবেগজনিত সমস্যার মধ্য দিয়ে যান। কিন্তু সামাজিক সংকোচ, সচেতনতার অভাব এবং সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকায় তাঁরা সহায়তা নিতে আগ্রহী হন না। তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে মানসিক স্বাস্থ্যকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

মনোকথার কার্যক্রম, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন মনোবিজ্ঞানী ও গবেষক তানজীম জামান। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

মনোবিজ্ঞানী ও মেন্টর হৃদয় ইফতেখার ইফতি ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’-এর পরিচিতি তুলে ধরেন। তিনি কার্ডটির প্রয়োজনীয়তা, এর মাধ্যমে পাওয়া সুবিধা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ভূমিকা ব্যাখ্যা করেন।

মনোকথা ও কেয়ার কার্ডের কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রদর্শনের পর আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ ও মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রসুল বাবুল, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও এইচআরডিসির পরিচালক জিয়ানুর কবীর, সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর মো. সামসুজ্জামান মোল্লা (ইমন), মনোবিজ্ঞানী তারিন তাবাসসুম ও সাইকোসোশ্যাল কাউন্সিলর সুলতান ভূইয়া প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যেরও নিয়মিত যত্ন প্রয়োজন। সংকট তীব্র হওয়ার আগে সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব। এ জন্য সহজে গ্রহণযোগ্য, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক সংকোচ দূর করতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তাঁরা। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘মনোকথা কেয়ার কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, উদ্যোগটি মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত মানসিক যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, মানুষের মানসিক সুস্থতার নিয়মিত যত্ন নিশ্চিত করতেই মনোকথা কেয়ার কার্ড চালু করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং আরও সহজলভ্য সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করবে মনোকথা।








  এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ